ডাকাডাকিতেও সাড়া নেই, পরে টয়লেটে মিলল কসাইয়ের মরদেহ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পৌরসভার করিমপুর ত্রিমুহনী মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসার টয়লেট থেকে রুবেল (৫০) নামে এক কসাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর পৌরসভার করিমপুর ত্রিমুহনী মোড় এলাকায় একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রুবেল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মূলগ্রামের লালচান ওরফে মন্টুর ছেলে। তিনি পেশায় কসাই ছিলেন। প্রায় তিন মাস ধরে ক্ষেতলাল পৌরসভার করিমপুর ত্রিমুহনী মোড় এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একাই বসবাস করতেন। পাশাপাশি সাহেব কসাইয়ের সঙ্গে করিমপুর, ইটাখোলা ও ক্ষেতলাল বাজারে গরু জবাই এবং মাংস বিক্রির কাজ করতেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেল বিবাহিত ছিলেন এবং তার তিন সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে তিনি একাই ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, তার হৃদরোগের সমস্যাও ছিল।
রুবেলের মহাজন সাহেব কসাই জানান, গত রোববার সন্ধ্যায় তারা করিমপুর বাজারে একসঙ্গে চা পান করেন। এরপর রুবেল বাসায় ফিরে নিজের ঘরে ঢোকেন। পরে তাকে আর বাইরে দেখা যায়নি।
সাহেব কসাই বলেন, সোমবার বিকেলে রুবেলের বাসায় গিয়ে একাধিকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় এবং রুবেলের ছেলেদের খবর দিয়ে বাসার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। এ সময় টয়লেটের ভেতরে রুবেলের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে ক্ষেতলাল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মরদেহ উদ্ধারের সময় রুবেলের শয়নকক্ষে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকজনিত কারণে রুবেলের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
