logo

চাকরির চেষ্টায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমা

চাকরির চেষ্টায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমা

১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। কিন্তু জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় যাওয়ার সময় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

নাসিমার বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামে। তিনি মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী। লাশ শনাক্তের পর বৃহস্পতিবার রাতে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হন। শুক্রবার সকালে গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্বামীহারা নাসিমা গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চাকরির সন্ধানে সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাসায় যান। এক মাস চেষ্টা করেও কাজ না পেয়ে ঈদ উদ্‌যাপনের জন্য তারা ফরিদপুরে আজমিরার শ্বশুরবাড়িতে যান।

ঈদ শেষে ২৫ মার্চ বিকেলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন নাসিমা, অন্তঃসত্ত্বা আজমিরা, তার চার বছরের ছেলে আব্দুর রহমান এবং স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলার সময় তাদের বহনকারী বাসটি নদীতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের মধ্যে ভেসে উঠে প্রাণে বেঁচে যান আব্দুল আজিজ। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমা, আজমিরা ও শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের চাকা বিস্ফোরিত হয়ে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

নিহতের চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু বলেন, নাসিমা রানা প্লাজায় কাজ করতেন। সেই দুর্ঘটনায় বেঁচে গেলেও স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের ভার কাঁধে নিয়ে চাকরির জন্য ঢাকায় আসেন। সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষযাত্রা হয়ে দাঁড়ায়।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।