ডাকসু নিয়ে ‘অশ্লীল’ মন্তব্য, ক্ষমা চাইলেন জামায়াত নেতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু) ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলে মন্তব্য করেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান। এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ ঘটনার পর রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেন।
বার্তায় তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগে ডাকসু ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের দখলে। ছাত্রলীগের পলাতক সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী ও পলাতক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ২০১৯ সালের ডাকসুকে কুক্ষিগত করেছিল।
এই পরিচয়কে ব্যবহার করে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদক, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির আখড়ায় পরিণত করেছিল। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকা যেমন—সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক কেন্দ্র করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিত। যা বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকায় উঠে এসেছে। এগুলো কারও অজানা নয়।
তিনি আরও বলেন, আমি আমার বক্তব্যে মূলত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সেই সব অপকর্মের কথাই বোঝাতে চেয়েছি। জুলাই বিপ্লবের পর ২০২৪ সালের ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে ও সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল নির্বাচিত হয়।
এরপর থেকে ডাকসু চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, সিট বাণিজ্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই প্রেক্ষিতেই আমি বলতে চেয়েছি, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ডাকসুতে যে কালিমা লাগিয়েছিল, ছাত্রশিবির তা মুছে দিতে সক্ষম হয়েছে। তারপরও আমার বক্তব্যে যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে আমি তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।
এর আগে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটি ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজি ও সকল প্রকার দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, আমরা রাজনীতি করি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, পরকালের নাজাতের জন্য। তাই আপনাদের সেই ইমানের বলে বলীয়ান হয়ে সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আগামী দিনে যেন ভোটকেন্দ্রে কোনো রকম হাঙ্গামা করতে না পারে, সে জন্য আপনাদের সিসা ঢালা প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে ইনশাআল্লাহ।