logo
Advertisement

চাঁপাইনবাবগঞ্জ/‘বাড়ির চারপাশে পানি, বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই’

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী
‘বাড়ির চারপাশে পানি, বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই’
পদ্মার পানি বাড়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেছে নদীর পানি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ভারতের গঙ্গা নদী থেকে নেমে আসা উজানের ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে নদীটির পানি বর্তমানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শিবগঞ্জ উপজেলার অন্তত ১ হাজার ১০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মার পানি ক্রমাগত বাড়ছে। সেদিন নদীটিতে পানির উচ্চতা ছিল ২০.৬৪ মিটার, যা গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১.৭২ মিটারে। নদীটির বিপৎসীমা ২২.৫০ মিটার হওয়ায় বর্তমানে সতর্কসীমায়, অর্থাৎ বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দৈনন্দিন কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

পাঁকা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দা আজাহার আলী বলেন, নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে। আমাগো বাড়ির চারপাশে পানি, বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই। রান্নাবান্না বন্ধের উপক্রম। ছোট বাচ্চা আর গরু-ছাগল নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।

পরিস্থিতি সম্পর্কে পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, আমার ইউনিয়নের প্রায় ৬ থেকে ৭টি গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ৩৫০টি পরিবারের বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। আপাতত পরিস্থিতি জটিল না হলেও সামনে বড় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন দুর্গত এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, পদ্মার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ১ হাজার ১০০ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। আমরা সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত তাদের জন্য সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।