logo

খাগড়াছড়ি/যত্রতত্র বিলবোর্ডে ঢাকা পড়েছে পাহাড়ের সৌন্দর্য

যত্রতত্র বিলবোর্ডে ঢাকা পড়েছে পাহাড়ের সৌন্দর্য
খাগড়াছড়ি পৌর শহরে সারি সারি বড় বড় বিলবোর্ড। বিলবোর্ডের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের সৌন্দর্য। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পাহাড় ও প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন খাগড়াছড়িতে ছুটে আসেন পর্যটকরা। তবে খাগড়াছড়ি পৌর শহরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সড়কের পাশে ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সারি সারি বড় বড় বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড। এতে একদিকে আড়ালে পড়ছে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অন্যদিকে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে থাকা এসব বিলবোর্ড ঘিরে তৈরি হয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

সরেজমিন দেখা গেছে, খাগড়াছড়ি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও জনবহুল এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। অনেক বিলবোর্ডের অবস্থান বৈদ্যুতিক তারের খুব কাছাকাছি। ঝড়ো হাওয়া কিংবা বৃষ্টিতে এসব বিলবোর্ড ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পথচারীরা। তাদের অভিযোগ, পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে এসে শহরে প্রবেশের পর চোখে পড়ে শুধু বিজ্ঞাপন আর বিলবোর্ড। এতে শহরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য অনেকটাই ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।

যশোর জেলা থেকে আসা পর্যটক মো. ইব্রাহীক তৌসিফ বলেন, খাগড়াছড়িতে এসেছি পাহাড়, প্রকৃতি ও সবুজের সৌন্দর্য দেখতে। কিন্তু শহরে প্রবেশের পর যেভাবে রাস্তার পাশে অসংখ্য বিলবোর্ড চোখে পড়ে, তাতে শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা কঠিন হয়ে যায়। পরিকল্পিতভাবে বিলবোর্ড স্থাপন করা উচিত।

খুলনা থেকে আসা আরেক পর্যটক সাদিয়া নাসরিন ঝুমা জানান, পাহাড়ি শহরের নিজস্ব একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রয়েছে। কিন্তু যত্রতত্র বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ড স্থাপনের কারণে সেই সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। পর্যটন শহর হিসেবে খাগড়াছড়িকে আরও পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করা প্রয়োজন।

আরেক পথচারী মো. রায়হান বলেন, শহরের বিভিন্ন জায়গায় অনুমোদনহীনভাবে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে বলে মনে হয়। এগুলোর কারণে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা মেমং মারমা বলেন, বড় বড় বিলবোর্ড অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। ঝড়-বৃষ্টিতে এগুলো ভেঙে পথচারী কিংবা যানবাহনের ওপর পড়তে পারে। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড সরিয়ে নেওয়া দরকার। আমরা বাজারে এলেই আতঙ্কে থাকি।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার দেওয়া তথ্যমতে, খাগড়াছড়ি শহরে আটটি বড় এবং প্রায় ৩২টি ছোট বিলবোর্ড রয়েছে। তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান অসংখ্য বিলবোর্ডের মধ্যে কতগুলো অনুমোদিত, কতগুলো অনুমোদনহীন এবং কোনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খাগড়াছড়ি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই খাগড়াছড়ির অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু শহরের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, তাতে শহরের সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিলবোর্ড স্থাপনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নিয়মিত তদারকি থাকা প্রয়োজন। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, এমন বিলবোর্ড দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।

খাগড়াছড়ি পৌর প্রশাসক সাদিয়া আফরিন কচি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি নতুন করে কোনো বিলবোর্ড স্থাপনের অনুমোদন দেননি। শহরে স্থাপিত বিলবোর্ডগুলো জনদুর্ভোগের কারণ হলে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

আকরাম হোসেন

সম্পাদনা

আকরাম হোসেন

সহকারী বার্তা সম্পাদক | এশিয়া পোস্ট