পঞ্চগড়ে নেই হামের প্রকোপ, হাসপাতালের বেড ফাঁকা

চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রার্দুভাবে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দেশে আলোড়ন তৈরি করলেও দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে বর্তমানে এনিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। জেলায় হামের প্রার্দুভাব নেই বললেই চলে। সন্দেহজনক হাম রোগীদের অধিকাংশ হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে নিজ বাড়িতে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। তবে এনিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের চতুর্থ তলার চারটি কক্ষে ১২টি বেড হাম ও রুবেলা রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হলেও প্রতিটি বেড ফাঁকা থাকায় দরজায় তালা ঝুলছে। গত তিন দিন ধরে কোনো রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হননি। তবে নতুন করে হামের রোগী এলে চিকিৎসাসেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ—এমনটাই হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৫২ জন। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা তিনজন। এ ছাড়া সন্দেহজনক হাম রোগে ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু কেউ নেই। এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৪ জন। এর মধ্যে সদর হাসপাতালে নয়জন, বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেে দুজন, আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়াতে একজন করে ভর্তি হন। পরে তারা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। এ পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে ৪৭ জনের।
তবে গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা নেই। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যাও নেই গত ২৪ ঘণ্টায়। এ ছাড়া সন্দেহজনক হাম রোগী ও নিশ্চিত হাম রোগীর মৃত্যুর সংখ্যাও নেই। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি ও ছুটি পাওয়া কেউ নেই।
হাম রোগে আক্রান্ত তিনজন হলেন, বোদা উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের
আমতলা কাজীপাড়া মৌলভী পাড়া এলাকার আনিসুর রহমানের ১৪ মাস বয়সী ছেলে রাইয়ান। সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের কামরাঙ্গাপাড়া এলাকার আনারুল ইসলামের নয় মাস বয়সী মেয়ে আরিশা জান্নাত এবং পঞ্চগড় সদর উপজেলার সবুজপাড়া এলাকার মনিরুজ্জামানের ১১ মাস বয়সী ছেলে মুনতাহিন।
বাবা আনিসুর রহমান রাইয়ানকে জ্বর ও র্যাশ নিয়ে গত গত ২০ এপ্রিল পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে নমুনা সংগ্রহ করা হলে ১ মে তার হাম পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তবে তার আগেই রাইয়ান সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছে।
এ ছাড়া, আনারুল ইসলামের নয় মাস বয়সী মেয়ে আরিশা জান্নাতকে র্যাশ ও জ্বর নিয়ে গত ২৩ এপ্রিল ভর্তি করা হয়। নমুনা সংগ্রহ করার পরে গত ৫ মে তার হাম পজিটিভ রিপোর্ট আসে।
এদিকে, মনিরুজ্জামানের ১১ মাস বয়সী ছেলে মুনতাহিনকে র্যাশ ও জ্বর নিয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে ৫ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রংপুরের কো-অর্ডিনেটরের মাধ্যমে প্রাপ্ত রিপোর্ট বা তথ্য মোতাবেক পজিটিভ রিপোর্ট আসে।
হাম আক্রান্ত শিশু রাইয়ানের বাবা আনিসুর রহমান বলেন, শুরুতে জ্বর ও শরীরে র্যাশ ওঠা শুরু করে রাইয়ানের শরীরে। পরে স্থানীয় চিকিৎসার মাধ্যমে জ্বর না কমলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানে চিকিৎসা নিয়ে রাইয়ান সুস্থ হয়ে বাসায় আসে। বর্তমানে সে পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা মিজানুর রহমান বলেন, হাম ও রুবেলা রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও ওষুধপত্র রেডি আছে। তবে জেলায় আইসিইউ বেড নেই। যদিও এখনও কোনো রোগীর সে পরিস্থিতিতে যেতে হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আক্রান্তদের বেশির ভাগই বাসায় আমাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। তিনজন আক্রান্ত হলেও জেলায় দুজন ও বাইরে থেকে একজন যুক্ত হয়। বর্তমানে হাম নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। তবে যদি কেউ আক্রান্ত হয় আমরা তাদের সেবা দিতে ২৪ ঘণ্টা তৈরি আছি।
