logo

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে ৯ মৃত্যু/জাহাজে পাওয়া গেল মাত্রাতিরিক্ত ‘হাইড্রোজেন সালফাইড’

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
জাহাজে পাওয়া গেল মাত্রাতিরিক্ত ‘হাইড্রোজেন সালফাইড’
ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানা। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙার কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় দুটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। কারখানায় যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল তাতে মাত্রাতিরিক্ত ‘হাইড্রোজেন সালফাইড’ থাকার উপস্থিতি পেয়েছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতির বিষয়ে জানান বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিদর্শক এস.এম. সাখাওয়াত হোসেন।

শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খানও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, সরকারের একাধিক সংস্থা উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে ঘটনার আগে-পরের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তে কারও অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামে কারখানাটিতে শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল সেটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করত।

এ ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ৯ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল এ ধরনের জাহাজগুলো আগে গ্যাসমুক্ত করে তারপর কাটতে হয়। কিছু ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাস থাকতে পারে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করে কাটার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত ১০ পিপিএম মাত্রায় ‘হাইড্রোজেন সালফাইড’ গ্যাস থাকলে মানুষের চোখ দিয়ে পানি পড়া, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব এবং কাশির উদ্রেক হয়। ১০০ পিপিএমের বেশি গ্যাসের সংস্পর্শে কোনো মানুষ গেলে ফুসফুসে পানি জমে রক্তক্ষরণ থেকে অচেতন হয়ে পড়ে। স্নায়ুতন্ত্র অচল হয়ে এক থেকে তিন মিনিটের মধ্যে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মানুষ মারা যায়।

বিস্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিদর্শক এস. এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার চার ঘণ্টা পর বিস্ফোরক পরিদপ্তরের পরীক্ষায় সেখানে ১০.৮ পিপিএম হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায়। যা দুর্ঘটনার সময় ১০০ পিপিএম-এর চেয়েও বেশি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হাইড্রোজেন সালফাইডকে একটি সাইলেন্ট কিলার বা অদৃশ্য ঘাতক বলা হয়। এটি একটি সম্পূর্ণ বর্ণহীন গ্যাস। এটি সাধারণ বাতাসের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ ভারী। যে কারণে এটি ওপরের বাতাসে উড়ে না গিয়ে জাহাজের নিচতলা, ট্যাংক বা আবদ্ধ নিচু জায়গায় জমে থাকে।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা হয়নি। তবে পুলিশ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কেউ অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।