কুমিল্লার ধর্মসাগর ও ঈদগাহ/দিনে বিনোদনকেন্দ্র, রাতে মাদকের আখড়া

দিনের বেলায় কুমিল্লা নগরীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র ঈদগাহ ও ধর্মসাগরপাড় এলাকা থাকে পরিবার, শিশু-কিশোর ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর। তবে রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকাটির চিত্র পুরো পাল্টে যায়। অন্ধকার ও নির্জনতার সুযোগে চলে মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও অসামাজিক কার্যকলাপ। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সাধারণ নাগরিকদের নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহ ও ধর্মসাগরপাড়ের কিছু নির্জন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে বিভিন্ন বয়সি মানুষের জটলা তৈরি হয়। এসব স্থানের কিছু অংশে নিয়মিত মাদকসেবন, জুয়ার আসর এবং নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে। যারা নিয়মিত সেখানে শরীরচর্চা করতে যান, তাদের অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। ঈদগাহ মাঠের ভেতরে রাতের বেলায় প্রকাশ্যে মাদকসেবনের ঘটনা ঘটে। ধোঁয়া ও গন্ধে আশপাশের মানুষও চরম অতিষ্ঠ হন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি কিংবা আক্রমণের শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ঝোপঝাড় ও অন্ধকারের সুযোগে নারী-পুরুষের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ঈদগাহে ১৫টি লাইটের মধ্যে ৬টিই অকেজো। আর যেসব লাইট জ্বলছে, সেগুলোর আলো গাছের ঘন পাতার কারণে নিচে পর্যন্ত পৌঁছায় না।
শুধু ঈদগাহ নয়, ধর্মসাগরপাড়েও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। গানের আসরের ফাঁকে ফাঁকে প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন করা হয়। পাশাপাশি গাছের নিচে দীর্ঘ সময় আড়ালে ছেলে-মেয়েদের আপত্তিকর অবস্থানের কারণে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সাধারণ দর্শনার্থীরা চরম অস্বস্তিতে পড়েন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অনেকেই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও হুমকির মুখে পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ঈদগাহ ও ধর্মসাগরপাড়ে মাদকের আড্ডার বিরুদ্ধে কথা বললেই শুরু হয় হুমকি-ধামকি। ব্যক্তিগতভাবেও কয়েকবার আক্রমণের মুখে পড়েছি। অথচ ঘটনাস্থল থেকে এসপি অফিস ও থানা খুব বেশি দূরে নয়। তারপরও এই মাদকচক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা শরীফুল পরশ বলেন, শুধু ঈদগাহ বা ধর্মসাগরপাড় নয়, এখন নগরীর বিভিন্ন বাসা ও ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েও মাদক সেবন ও কেনাবেচা হচ্ছে বলে শুনছি। বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। থানায় একটি গোপন অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হলে সাধারণ মানুষ পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দিতে পারবেন।
কাকলী নামে স্থানীয় এক নারী বলেন, নগরীর সবচেয়ে পরিচিত উন্মুক্ত স্থানগুলোতে যদি দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চলে, তবে নিয়মিত পুলিশ টহল, সিসিটিভি নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা উচিত।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। ঈদগাহ ও ধর্মসাগরপাড় এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
