‘এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি না ছাড়লে মেরে গুম করে দেব’

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মানিকপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধা ও তার ছেলেকে মারধর, বসতঘর ভাঙচুর এবং পরে ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি দখলের উদ্দেশ্যে তাদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি বাড়ি না ছাড়লে মেরে গুম করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে জরিনা বেগমের মেয়ে হোসনে-আরা আদালতে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে আটজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তার অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।
অভিযুক্তরা হলেন—সেকান্দার ব্যাপারী (৫০), এসকান্দার ব্যাপারী (৪৫), বেলায়েত তালী (২০), নাদিম তালী (২০), ইদ্রিস তালী (৫৫), নূর ইসলাম তালী (৩০), আনোয়ারা বেগম (৫৫) ও ফাতেমা বেগম (৪৫)।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ আগস্ট রাতে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র—রামদা, ছেনদা ও লোহার রড নিয়ে তাদের বসতবাড়িতে ঢোকেন। এ সময় জরিনা বেগমকে গালিগালাজ করা হয়। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। এমনকি হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আমার ভাই ঠান্ডু মিয়াকেও মারধর করা হয়। তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং পরে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে।
শুধু মারধরেই নয়, হামলাকারীরা বসতঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরদিন ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক একটার দিকে বসতঘরের চারপাশে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে জরিনা বেগম চিৎকার শুরু করেন। পরে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ছেলেকে ঘর থেকে বের করে আনেন তিনি।
ভোক্তভোগী জরিনা বেগম রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় জমি কিনে সেখানে বসতবাড়ি করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তার কবরও ওই জমিতে দেওয়া হয়েছে।
জরিনা বেগম বলেন, এই বাড়ি আমার স্বামীর। আমরা বহু বছর ধরে এখানে থাকি। যে জমি নিয়ে তারা দাবি করছে, সেই জায়গাতেই আমার স্বামীর কবর রয়েছে। আমাকে এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। না গেলে মেরে গুম করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে একা থাকি। অন্য ছেলেরা ঢাকায় চাকরি করে। এই সুযোগে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে জমিটি নিয়ে কয়েক দফা সালিশ হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা লিটন মাতুব্বর বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তারা একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করেছেন। আমরা কয়েক দফা সালিশ করেছি। বৃদ্ধ মহিলা প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। তার অন্য ছেলেরা ঢাকায় চাকরি করেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা মানা হয়নি। এরপর তাদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।
শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। একজন বৃদ্ধ নারী ও তার প্রতিবন্ধী ছেলের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগ অস্বীকার করে এসকান্দার ব্যাপারী বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা তাদের মারধরও করিনি। এসব অভিযোগ মিথ্যা।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, আদালত থেকে অভিযোগটি তদন্তের জন্য আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


