আকস্মিক ঝড়ে পদ্মায় ডুবে গেছে অর্ধশত নৌকা

আকস্মিক ঝড়ে রাজশাহীর টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মা নদীতে থাকা ৫০টি নৌকা ডুবে গেছে। এ সময় নৌকা থেকে তীরে উঠতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে ১০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের দিকে হঠাৎ করেই বাতাসের গতি বাড়তে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পদ্মার পানি উত্তাল হয়ে ওঠে। দমকা বাতাসের সঙ্গে সৃষ্টি হয় বড় বড় ঢেউ। নৌকায় থাকা মাঝি ও যাত্রীরা দ্রুত তীরে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাতাসের তীব্রতা ও ঢেউয়ের তোড়ে অনেক নৌকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাত হয়ে যায়। পরে অনেক নৌকা পানিতে তলিয়ে যায়।
ঝড়ের মধ্যে তীরে ওঠার সময় শুরু হয় হুড়োহুড়ি। কেউ পানিতে পড়ে যান, আবার কেউ নৌকা আঁকড়ে ধরে কোনোভাবে তীরে ওঠেন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। রাতের অন্ধকার, প্রবল বাতাস ও উত্তাল নদীর কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাহত হয়।
স্থানীয় মাঝিরা জানান, পদ্মার পানি শান্ত থাকলে নৌকা চালানো সহজ হলেও হঠাৎ ঝড় শুরু হলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ছোট নৌকাগুলো ঢেউয়ের সঙ্গে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। বুধবার রাতের ঘটনাতেও তীব্র বাতাস ও ঢেউয়ের কারণে নৌকাগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে জানান তারা।
একাধিক মাঝির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝড় শুরু হওয়ার পর অনেকেই দ্রুত নৌকা তীরে ভেড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাতাসের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সবাই নিরাপদে ফিরতে পারেননি। তীরের কাছাকাছি থাকা কয়েকটি নৌকাও ঢেউয়ের ধাক্কায় ডুবে যায়।
রাজশাহীর পদ্মাপাড়ের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র টি-বাঁধ। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। পদ্মায় নৌকাভ্রমণও এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যার পর পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই নৌকায় পদ্মা ঘুরতে বের হন। ফলে আকস্মিক ঝড়ে নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টি-বাঁধ এলাকায় নৌযাত্রায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। অনেক নৌকায় পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট থাকে না। আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে নৌকা চলাচল বন্ধ রাখা এবং মাঝিদের সতর্ক করার ক্ষেত্রেও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে বুধবার রাতের ঘটনাকে কেউ কেউ ‘জলোচ্ছ্বাস’ বললেও বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড। সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, রাজশাহীতে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জলোচ্ছ্বাস মূলত উপকূলীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বঙ্গোপসাগরে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ও প্রবল বাতাসের কারণে সমুদ্রের পানি ফুলে উঠে উপকূলীয় এলাকায় এর প্রভাব পড়ে। রাজশাহী সমুদ্র উপকূল থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে হওয়ায় সেখানে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের সরাসরি প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, পদ্মায় বুধবার রাতে তীব্র আকস্মিক ঝড়ের কারণে পানি উত্তাল হয়ে ওঠে এবং ঢেউয়ের তোড়ে টি-বাঁধের কিছু অংশে পানি উপচে পড়ে। এটিকে জলোচ্ছ্বাস বলা ঠিক হবে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নদীর আবহাওয়া খুব দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নৌযান চলাচলে সতর্কতা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করা জরুরি।
ঝড়ের পর ডুবে যাওয়া নৌকাগুলো উদ্ধারে স্থানীয়ভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে নৌকার মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত নৌকার সংখ্যা ও মোট আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি।

