logo

কুষ্টিয়ায় কবর থেকে পীরের মরদেহ উত্তোলনের গুঞ্জনে উত্তেজনা

কুষ্টিয়ায় কবর থেকে পীরের মরদেহ উত্তোলনের গুঞ্জনে উত্তেজনা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিহত ‘পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে—এমন গুঞ্জনে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কবর ও দরবার-সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয় ভক্তদের উদ্যোগে দরবার-সংলগ্ন এলাকায় একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যাতে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন অংশ নেন। মিছিল শেষে লাশ উত্তোলনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়রা জানান।

তবে ভক্তদের পক্ষ থেকে এ গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে। ভক্ত আব্দুর রহমান বলেন, ‘মরদেহ উত্তোলনের কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। যারা তাকে হত্যা করেছে এবং দরবারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তারাই অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

এদিকে, লাশ উত্তোলনের গুঞ্জনের কারণে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। কবরস্থানে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। 

কুষ্টিয়া ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘মরদেহ উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে ভক্তদের সচেতন করা হয়েছে এবং তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মরদেহ উত্তোলনের বিষয়টি সঠিক নয়। তবে সম্ভাব্য যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’

গত ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানায় হামলা চালায়। এ হামলায় তিনি নিহত হন। ঘটনার তিন দিন পর নিহতের বড় ভাই দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।