রায়ের ১৬ মাসেও কার্যকর হয়নি মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের চার বছরের শিশু নাবিলা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মেহরাজ হোসেন তুষারের ফাঁসি দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। আদালতের রায়ের ১৬ মাস পেরিয়ে গেলেও দণ্ড কার্যকর না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এ মামলার রায় দেন। রায়ে আসামি মেহরাজ হোসেন তুষারকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নাবিলার দাদা আবদুল আজিজ বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় মামলা করেন। তদন্তের ১৪ দিনের মধ্যে পুলিশ মেহরাজ হোসেন তুষারকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ ছয় বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
মেহরাজ হোসেন তুষার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা দক্ষিণ ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের পল্লিচিকিৎসক আলী আশরাফের ছেলে।
নাবিলার বাবা আবুল কালাম বলেন, সাত বছর ধরে তিনি মেয়ের হত্যার বিচার প্রত্যাশা করছেন। রায় ঘোষণার পরও তা কার্যকর না হওয়ায় পরিবার এখনো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নিয়মিত পোস্টও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নাবিলার দাদা আবদুল আজিজ বলেন, দ্রুত রায় কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ কমবে এবং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী যুবক মেহরাজ হোসেন তুষার শিশু নাবিলাকে নিয়ে যায়। পরে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে সিমেন্টের বস্তার মধ্যে মরদেহ ফেলে রাখা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। মামলার রায় হওয়ার এত মাস হয়ে গেলেও এখনো কার্যকর হয়নি মৃত্যুদণ্ড।
.png)






