Advertisement

বাকলিয়ায় রুদ্ধশ্বাস সাত ঘণ্টা: ৪০ পুলিশ সদস্য আহত

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
বাকলিয়ায় রুদ্ধশ্বাস সাত ঘণ্টা: ৪০ পুলিশ সদস্য আহত
পুলিশ ভ্যানে আগুন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দাদের সাত ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস সময় পার করতে হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রোশের লক্ষ্যবস্তু হতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পুলিশের ভ্যান এবং সড়কের যানবাহন। আহত হয়েছেন পুলিশের অন্তত ৪০ জন সদস্য। বন্ধ করে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাতায়াত।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলা এই তাণ্ডবের ঘটনায় শুক্রবার মামলা হতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে

বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় পাঁচ বছর বয়সি একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে উদ্ধার করা হয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়রা ধারণা করেন, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় ডেকারেটর দোকানে চাকরি করেন। ওই দোকানের গুদামে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। খবর ছড়িয়ে পড়লে বাকলিয়াজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শিশুটিকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অভিযুক্তকে নেওয়া হয় হেফাজতে। ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে সড়কে অবস্থান নেয়। তারা পুলিশকে ঘেরাও করে ফেলে।

পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ

দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও ক্ষুব্ধ জনতাকে সরাতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। নিক্ষেপ করা হয় টিয়ারশেল। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে ক্ষুব্ধ জনতা। এতে নোবেল হাসান নামে এক সাংবাদিক আহত হন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে রামদা, দা-ছুরি নিয়ে কিছু ব্যক্তি জড়ো হন।

আহত সাংবাদিক নোবেল হাসান চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রতিবেদক। চট্টগ্রাম প্রতিদিনের প্রকাশক আয়ান শর্ম জানিয়েছেন, আহত অবস্থায় নোবেলকে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তকে বাকলিয়া থানায় নিতে সক্ষম হয় পুলিশ। অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিতে না পেরে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। ভাঙচুর করা হয় সড়কে থাকা কয়েকটি যানবাহন। রাত ১২ দিকে সড়ক ছাড়তে শুরু করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

বর্তমান অবস্থা

শুক্রবার সকাল ঘটাস্থলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা যাচ্ছে। তবে সেখানে পুলিশের সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করতে পারে বলে জানা গেছে। এজন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, আমাদের ৩৫-৪০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে পার্কিং করা বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এভিডেন্স কালেক্ট করার কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে আমাদের সতর্ক অবস্থান আছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে।