‘দুই মিনিট আগে বাস থেকে না নামলে আমার লাশ নদীতে থাকত’

পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন আবুল কালাম। ছুটি শেষে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য ফিরছিলেন ঢাকায়। কিন্তু বাসে যাত্রীদের নির্ধারিত আসনের টিকিট পাননি তিনি। ফিরতে হবে, তাই বাধ্য হয়ে বাসের ইঞ্জিন কাভারের উপর বসে রওনা দেন।
সৌহার্দ্য পরিবহনের এই বাসটি বুধবার (২৫ মার্চ) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাসের ২৭ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করার তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বাসযাত্রী আবুল কালাম বলেন, বাসটি ধীরে ধীরে নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে দেখে কী করব বুঝতে পারছিলাম না। হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। দুই মিনিট আগে বাস থেকে না নামলে আমার লাশও নদীতে থাকত।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সৈদাল পাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম। দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে বাসটিতে উঠেন। তখন ঘাটে বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিল। সিট না পেয়ে ইঞ্জিন কাভারের উপর বসেন তিনি। ইঞ্জিন গরম হয়ে যাওয়ায় বসতে অসুবিধা হচ্ছিল। এজন্য তিনি দুর্ঘটনার দুই মিনিট আগে বাস থেকে নেমে নিচে দাঁড়ান।
তিনি বলেন, বাসের ভেতর আমার ব্যাগ ছিল। ব্যাগে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, কোরিয়া যাওয়ার প্রস্তুতির কাগজপত্র এবং নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা ছিল। বাসটি উদ্ধারের পর ব্যাগ পেয়েছি।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।