মা-বাবা ও ভাই হারানো রহমতের দায়িত্ব নিলেন মাসুদ সাঈদী

ঈদের দিন সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও ভাই হারানো কিশোর রহমত (১১) দ্বায়িত্ব নিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। এ সময় নিজ তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও এক মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার দেন।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে নিহত তিনজনের পরিবারের পক্ষে একমাত্র বড় ছেলে রহমাতের (১১) হাতে ৭৫ হাজার টাকা নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতা করেন এবং তার পড়ালেখার খরচ বহন করবেন।
এছাড়া আগামী ১ মাসের চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার প্রদানের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিতিদের মধ্যে থেকে আরও ৫৩ হাজার টাকা রহমাতের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এমপি মাসুদ সাঈদী বলেন, নিহতের পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১১ বছরের শিশু সন্তান রহমতের পড়ালেখা, ভরণপোষন ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য বিআরটিএ থেকে প্রত্যেকের নামে ৫ লক্ষ টাকা করে মোট ১৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য ইতিমধ্যেই চাহিদা পত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন এবং শিগ্রই তারা এই সহযোগীতা পেয়ে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, চালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সর্বস্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিশ্বে ১৩তম আর এশিয়ায় ৭ম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশে প্রতিবছর ২১ হাজার নিরপরাধ মানুষের তরতাজা প্রাণ অকালে নিভে যায়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নাজিরপুর উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হাসানাত ডালিম, উপজেলা যুববিভাগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সেক্রেটারি জাহিদুল হক, শিবির সভাপতি মো. আবু হানিফ প্রমুখ।
এর আগে, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় রহমতের বাবা সোহাগ, মা খাদিজা বেগম এবং ছোট ভাই আরমান নিহত হন। এ বিষয়ে ‘একসঙ্গে পরিবারের তিনজনকে হারিয়ে ঈদের আনন্দ ম্লান’ এই শিরোনামে এশিয়া পোস্টের অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ায় একটি সংবাদ প্রকাশ করে। এর পরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ সংবাদ প্রচারিত হয়।
