logo

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে শেষ বিদায়

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে শেষ বিদায়
মিরসরাইয়ের মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় জানাজা শেষে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে পুলিশের একটি দল বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের মরদেহের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায়।

এর আগে সকালে চট্টগ্রাম মহানগরের জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় জানাজা হয়। জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন দেশের রাজনীতির এক অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব। দেশ ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তার মৃত্যুতে চট্টগ্রামবাসী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শোক জানাতে এসেছি। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

তবে জানাজায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের তেমন কেউ ছিলেন না। জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক দেবাশীষ পালিতকে দেখা গেছে। এ ছাড়া সাবেক মেয়র জাতীয় পার্টির নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সিপিবি নেতা কমরেড শাহ আলম ও অশোক সাহা এসেছিলেন মোশাররফ হোসেনকে শ্রদ্ধা জানাতে।

জানাজায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন তার বড় সন্তান সাবেদুর রহমান সুমু। তিনি সার্বিক সহযোগিতার জন্য চসিক মেয়রসহ প্রশাসন এবং পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।

জমিয়তুল ফালাহ মাঠে ঢোকার আগে পুলিশের নানামুখী নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হতে হয়েছে আগত ব্যক্তিদের। ফটকে ছিল তল্লাশিচৌকি।

চট্টগ্রাম-১ আসনের ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার সময়ে সেখানেই ছয় দফা আন্দোলনের পক্ষে নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতিতে আসা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ২৫ মার্চ রাতেই শুভপুর ব্রিজে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন তিনি। পরে ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।