ইতালিতে তিন বাংলাদেশি খুন/কামালের বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নোয়াখালী
কামালের বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবারের
স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু ও কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশার সঙ্গে কামাল উদ্দিন বাবুল। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রী ও এক সন্তানসহ ইতালিতে নিজ বাসায় খুন হয়েছেন নোয়াখালীর কামাল উদ্দিন বাবুল। খুনের ঘটনায় কামালের এক বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

Advertisement

কামালের পরিবারের দাবি, তার বন্ধু ইতালি প্রবাসী মো. শাহাদাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। শাহাদাত ও বাবুলের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ইতালিন রাজধানী রোমের পাশে ক্যাসালোত্তির ভিয়া মন্তিলিও এলাকার একটি বাসায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু এবং পাঁচ বছর বয়সি কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশার মৃত্যু হয়।

কামালের বাবা সিরাজ আলম বলেন, সাত মাস আগে কামাল পরিবারসহ দুই মাসের ছুটিতে দেশে আসে। তখন একটি চিঠির মাধ্যমে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

সে সময় বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

২০১০ সালে ইতালিতে পাড়ি জমান কামাল উদ্দিন বাবুল। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ইতালির ক্যাসালোত্তির ভিয়া মন্তিলিও এলাকায় বসবাস করছিলেন তিনি।

ইতালির পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত কামাল, তার স্ত্রী ও কন্যাকে প্রবিবেশীরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কামালের ২০ বছর বয়সি ছেলে আমির হোসেন অয়ন ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ফুফাতো বোন জামাই আমিন উল্যার সহায়তায় ইতালিতে যান কামাল। প্রবাসে যাওয়ার আগে একই ইউনিয়নের মমতাজ বেগম আরজুকে বিয়ে করেন।

কামালের বাবা সিরাজ আলম জানান, পূর্ববিরোধের জেরে একই এলাকার ইতালি প্রবাসী শাহাদাত নামের এক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনও এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে অভিযুক্ত বা গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছি। নিহতদের গ্রামের বাড়িতে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান জানান, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছেন। আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিষয় :নোয়াখালী