নীলফামারী/আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০০ ঘরের ৯০টিতেই তালা

রাস্তার পাশে সারি সারি আধাপাকা ঘর। প্রতিটি ঘরে রয়েছে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর এবং সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধা। অথচ তার অধিকাংশ ঘরেই ফাঁকা হয়ে পড়ে আছে। এটি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছা চাপানি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঝুনাগাছা স্লুইসগেট আবাসন এলাকার চিত্র। সেখানকার ১০০টি ঘরের মধ্যে ৯০টিতেই ঝুলছে তালা। আর বর্তমানে যারা বসবাস করছেন, তাদের অনেকের নামেই কোনো বরাদ্দ নেই।
জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় এলাকাটিতে ১০০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। সেখানে প্রতিটি ঘরে খরচ ধরা হয়েছিল দুই লাখ টাকা। নির্মাণের কিছুদিন পরই দুই শতক জমিসহ সুবিধাভোগীদের ঘরগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সরকারের এই উপহারের ঘর প্রকৃত ভূমিহীন বা গৃহহীনরা পাননি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফাঁকা ঘরগুলোর অধিকাংশই ঝোপঝাড়ে ঘিরে ধরেছে। অনেক ঘরের বারান্দা ও আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ও আগাছা জমে আছে। আবার কোনো কোনো ঘরের উঠানে কচুসহ শাকসবজি চাষ করা হচ্ছে, কেউ বা বাঁশের বেড়া দিয়ে রেখেছেন।

এ ছাড়া নদীতীরবর্তী এলাকায় হওয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাওয়ার রাস্তায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সেখানে বসবাসরত কয়েকটি পরিবার যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে যাদের নিজস্ব জমি ও বাড়ি রয়েছে, তাদেরই মূলত ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে বরাদ্দ পেলেও তারা এসব ঘরে থাকছেন না।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা হনুফা বেগম বলেন, আমরা মাত্র ১০টি পরিবার এখানে থাকি, বাকি সব ঘর ফাঁকা। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। চারপাশে কেউ না থাকায় রাতে ভয়ে থাকতে হয়। যারা এখানে থাকেন না, তাদের নিজস্ব জমি ও বাড়িঘর রয়েছে।
তহমিনা বেগম নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, আমরা যারা এখানে থাকি, সবাই খুব গরিব। বাসিন্দা কম থাকায় প্রায়ই টিউবওয়েল ও বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হয়ে যায়। আমরা অল্প কয়েকটি পরিবার সবসময় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিউদ্দিন বলেন, বরাদ্দ দেওয়ার সময় স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তাদের আত্মীয়স্বজনদের ঘর দিয়েছেন। এখানে প্রকৃত ভূমিহীনদের থাকার কথা থাকলেও তারা বঞ্চিত হয়েছেন। প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা বরাদ্দ না পাওয়ায় আজ ঘরগুলো ফাঁকা পড়ে আছে।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, আশ্রয়হীন মানুষ আমাদের কাছে বিভিন্ন সময়ে পুনর্বাসনের জন্য আবেদন করছেন। আমরা তা যাচাই-বাছাই করছি। পরবর্তী সময়ে তাদের ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে পুনর্বাসন করা হবে।



