logo

মেয়ের কাছে বাবা ফিরেছে ঠিকই, তবে কফিনবন্দি নিথর দেহে

মেয়ের কাছে বাবা ফিরেছে ঠিকই, তবে কফিনবন্দি নিথর দেহে

মেয়েকে বলেছিলেন ঈদের পর দেশে ফিরবেন। ঠিকই ঈদের পর দেশে ফিরলেন আবুল মহসিন তারেক। তার এই ফেরাও চরম কাঙ্ক্ষিত ছিল তার স্বজনের জন্য। তবে অন্যবারের মতো আনন্দঘন নয়। বরং শোক আর বিষাদে মোড়ানো। তবু এই শোকের মধ্যে পরিবারের সান্ত্বনা–তারেককে দেশের মাটিতে দাফন করা গেছে। স্ত্রী-সন্তান পেয়েছেন শেষবারের মতো আপন মানুষটিকে একনজর দেখার সুযোগ।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যে বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চট্টগ্রামের প্রবাসী তারেকের লাশ ঘিরে শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে এই চিত্র দেখা যায় চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর ঈদগাহ বউবাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায়।

গত ১ মার্চ রাতে বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা এস এম তারেক। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার লাশ বাংলাদেশে পৌঁছায়। রাত আড়াইটার দিকে কফিনবন্দি লাশটি নেওয়া হয় চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরের ওই ভাড়া বাসায়। সেখানে তারেকের পরিবার বসবাস করে। 

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জানাজা শেষে লাশটি হালিশহরের ঈদগাহ বউবাজার এলাকায় দাফন করা হয়। এর আগে তারেকের সেই ভাড়া বাসার গিয়ে দেখা যায় আঙিনায় অ্যাম্বুলেন্স। ভেতরে কফিনে সাদা কাফনে মোড়ানো লাশ। দূর থেকে স্বজনরা তাকিয়ে আছেন অ্যাম্বুলেন্সের দিকে। জানাজার আগে ক্ষণিকের জন্য কাফনে মোড়ানো চেহারা দেখার সুযোগ পান স্ত্রী, একমাত্র মেয়ে ও কয়েকজন স্বজন।

তারেকের মামাতো ভাই মোশাররফ হোসেন বলেন, কফিন না খোলার জন্য বলেছেন চিকিৎসকরা। এজন্য রাতে লাশ এলেও কেউ চেহারা দেখতে পাননি। জানাজার আগে কফিন খুলে শুধু স্ত্রী, মেয়েসহ কয়েকজন স্বজন দেখেছেন। এক মাসের মধ্যে লাশ দেশে এসেছে, দেশের মাটিতে কবর দেওয়া হচ্ছে, এটাই বড় সান্ত্বনা।

তারেকের একমাত্র সন্তান তাসনিম তামান্না। মেয়েকে ঘিরেই ছিল তার সব। বাবার মৃত্যুর পর তামান্না বলেছিল, ‘এখন একটাই চাওয়া, শেষবারের মতো বাবাকে দেখা। কোনো জটিলতা ছাড়াই যেন বাবা দেশে ল্যান্ড করতে পারে। এখন তো শুনতেছি ফ্লাইটগুলো অফ। এই বিষয়টা যেন একটু দেখে, এটাই সরকারের কাছে আমার দাবি।’

নানা শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারেক নিহত হওয়ার এক মাস পর তার চেহারা একনজরের জন্য দেখতে পেয়েছে তার একমাত্র কন্যা। কিশোরী তামান্না নির্বাক হয়ে শুধু বাবার লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের দিকে তাকিয়ে ছিল। সে বলে, ‘বাবাকে একনজর দেখতে পেরেছি, এটিই সান্ত্বনা।’

এস এম তারেক ২০০৯ সালে বাহরাইনে যান। বাহরাইনের রাজধানী মানামার আরসি ড্রাইডক নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন তিনি।

বউবাজার এলাকায় তারেকের জানাজায় অংশ নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদারসহ অনেকেই। যুদ্ধের এই পরিস্থিতির মধ্যে লাশ দেশে আনার বিষয়ে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোশাররফ।