logo
Advertisement

লক্ষ্মীপুরে দীপ্ত টিভির সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলি

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরে দীপ্ত টিভির সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলি
সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম। ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া

লক্ষ্মীপুরে দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় সাকিব নামের একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জাহাঙ্গীর আলম ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার এবং স্থানীয় দৈনিক মেঘনার তীর পত্রিকার সম্পাদক আব্বাছ হোসেনের ছোট ভাই। এ ঘটনায় সাকিবের বিচার এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে জড়িত জাহাঙ্গীর আলম। মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি স্কুল থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকায় পৌঁছালে সাকিব বাহিনী প্রধান ও তার কয়েকজন সহযোগী তার পথরোধ করেন। একপর্যায়ে তারা জাহাঙ্গীরের মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তবে অল্পের জন্য গুলির হাত থেকে প্রাণে রক্ষা পান জাহাঙ্গীর। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা সাকিবকে আটক করে পুলিশে দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের বিরুদ্ধে সদর থানাসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যা ও মাদক আইনে কয়েকটি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে জামিনে বের হন। এর আগে সাকিবের গ্রেপ্তারের দাবিতে জকসিন বাজারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।

আটক সাকিব হোসেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট
আটক সাকিব হোসেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাকিব হোসেন সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকার সেলিম ড্রাইভারের ছেলে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা পর্যায়ের নেতা। স্থানীয়দের দাবি, সাকিবের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে এবং তিনি নিজেই ওই বাহিনীর প্রধান। তার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চার শিক্ষার্থী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সাকিব। কয়েকদিন আগে শিক্ষার্থী হত্যা ও মাদক আইনের মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে তিনি আবারও এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ইতোমধ্যে সাকিব ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতাও করেন জাহাঙ্গীর আলম। স্থানীয়দের ধারণা, মাদক ব্যবসা ও সাকিবের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর এ হামলা চালানো হতে পারে।

জাহাঙ্গীর আলমের বড় ভাই সাংবাদিক আব্বাছ হোসেন জানান, সাকিবের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাকিব ও তার বাহিনীর সদস্যরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। গুলি করা হলেও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান জাহাঙ্গীর। সাকিবের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত সাকিবকে আটক করে সদর থানায় পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।