রামেকে হামের চিকিৎসা চলছে ‘অনুমানের ভিত্তিতে’

আট মাস বয়সি শিশু ইবাইদুর রহমান, শরীরে রয়েছে তীব্র জ্বর ও গুটি গুটি র্যাশ। কয়েক দিন আগে হামের সব ধরনের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে। নমুনা পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়াই উপসর্গ দেখে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন, শিশুটি হামে আক্রান্ত। সেই ধারণা থেকেই চিকিৎসাসেবা।
ইবাইদুর রহমানের কয়েকটা বেড পরে মিজলিস (হাম) আইসোলেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা আবু রায়হান। তারও বয়স আট মাস। প্রথম রায়হান নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়। এরপর বেশ কিছুদিন চিকিৎসা চলে। হঠাৎ জ্বরের সঙ্গে এখন শরীরে গুটি গুটি লালচে দানা। পরিবার ও চিকিৎসকরা মনে করছেন- শিশুটি হামে আক্রান্ত।
ইবাইদুর ও রায়হানের মতো এমন শত শত শিশু রামেক হামপাতালে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিচ্ছে হামের লক্ষণ নিয়ে। তবে পরিবার ও চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানেন না- আদৌ শিশুগুলো হামে না অন্য কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত। কারণ হামের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য রামেক হাসপাতালে নেই কোনো ব্যবস্থাপনা।
জানা গেছে, হাম শনাক্তের জন্য নমুনা পরীক্ষা করতে ঢাকা পাঠাতে হয়। ফলাফল আসতে সময় লেগে যায় প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন। ফলে হামের উপসর্গ দেখে অনুমান নির্ভর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
এদিকে গত আড়াই মাসে উদ্বেগজনক হারে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে রাজশাহীতে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের হিসাব বলছে, জানুয়ারি থেকে চলতি মাস পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই পরীক্ষার অভাবে হাম নিশ্চিত হতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এ পর্যন্ত তারা ৯৪ শিশুর হামের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করতে পেরেছে। বাকি ৫৭ জন শিশু হামে আক্রন্ত না হয়েও শুধু হামের উপসর্গ থাকার ফলে হামের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা নিয়েছে।
হাসপাতাল কতৃপক্ষ বলছে, জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, শরীরের লালচে ফুসকুড়িসহ হামের উপসর্গ নিয়ে গত ১ জানুয়ারি থেকে চলিত মাসে মোট ৬০২ শিশু রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছে। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে ১৬৪ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রামেক হাপতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫-২৫ জন করে রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। এরপর এসব রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠান ডাব্লিউএইচওর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এরপর সেই নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসতে সময় লেগে যাচ্ছে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন। ফলে হামের উপসর্গ দেখে অনুমাননির্ভর চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, রাজশাহী বিভাগে ২৬টি এলাকা হামের ‘প্রাদুর্ভাব এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সর্বোচ্চ সংক্রমণ দেখা গেছে পাবনায় (১০টি এলাকা), রাজশাহীতে ছয়টি এলাকা (যার পাঁচটি মহানগরের ভেতরে), নওগাঁয় পাঁচটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিনটি, নাটোর ও সিরাজগঞ্জে একটি করে এলাকা। এ অঞ্চলের রোগীরা জেলা পর্যায়ে ঠিকমতো চিকিৎসা না পেয়ে বিভাগীয় শহরের রামেক হাসপাতালে আসছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হামের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো সিদ্ধান্তটি তাদের নয়। জাতীয়ভাবে যে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, তারা সেভাবে জেলা, উপজেলা ও বিভাগ পর্যায়ে কাজ করছেন।