কালবৈশাখী ঝড়ে ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন শিবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় নেসকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে অন্ধকারে রয়েছেন।
ঝড়ের কবলে পড়ে অনেক ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে এবং অসংখ্য আম গাছ ও বড় বড় ডাল ভেঙে পড়েছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে আমচাষি ও শ্রমজীবী মানুষরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার সারা দিন তীব্র গরমের পর সন্ধ্যায় কিছুটা বৃষ্টি হলেও রাত ১২টার দিকে বজ্রপাতসহ ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে লন্ডভন্ড হয়ে যায় অনেক এলাকা। বাগানগুলোতে আমের গুটি ও ডাল ভেঙে পড়ায় আমচাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। শিবগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের ঝাপটা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ইসরাইল মোড় ও সহড়াতলাসহ বেশ কিছু জায়গায় বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
শিবগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা ইসরাইল হোসেন জানান, রাত ১২টার দিকে প্রচণ্ড বেগে বাতাসের ঝাপটা আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ চলে যায় এবং পরে তারা জানতে পারেন বিভিন্ন এলাকায় নেসকোর খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমচাষি সেরাজুল ইসলাম বলেন, গাছের ডালে এখন আম ঝুলছে, কিন্তু ঝড়ে ডাল ভেঙে ও গাছ উপড়ে যাওয়ায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে মাঠ পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়ে শিবগঞ্জের নেসকোর আবাসিক প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, ঝড়ে ৩৩ কেভির মেইন লাইনের কিছু খুঁটি ভেঙে যাওয়া ও হেলে পড়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে এবং তাদের কর্মীরা দ্রুত মেরামতের জন্য মাঠে কাজ করছেন।
অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শিবগঞ্জ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, পুকুরিয়া ও ছত্রাজিতপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় ৫টি খুঁটি ভেঙে গেছে। মেইন লাইনের কাজ চলায় সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ থাকলেও দ্রুতই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।