Advertisement

নড়াইলে ৩২০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নড়াইল
নড়াইলে ৩২০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নড়াইলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলার ৪৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩২০টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। এতে একদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাড়ছে চাপ, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান।

Advertisement

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার কালিয়া, লোহাগড়া ও নড়াইল সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে কালিয়া উপজেলার ১৫৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৮টিতে, লোহাগড়া উপজেলার ১৬৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১২টিতে এবং নড়াইল সদর উপজেলার ১৭৫টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯০টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

ফলে এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে গিয়ে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছেন তারা।

শিক্ষকদের ভাষ্য, একজন সহকারী শিক্ষককে একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নথিপত্র সংরক্ষণ, সরকারি বিভিন্ন তথ্য অনলাইনে পাঠানো, সভা-সমন্বয়, অফিস ব্যবস্থাপনাসহ নানা দাপ্তরিক কাজে সময় দিতে হয়। ফলে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে যেসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে, সেখানে সংকট আরও তীব্র।

নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের ডিএসবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর অন্যতম উদাহরণ। ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৭৪ সালে জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৩২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ফলে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী সহকারী শিক্ষক মাহমুদা পারভীন বলেন, আমি যেহেতু প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছি, তাই অনেক সময় অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়।

একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোনিয়া খানম বলেন, সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজে প্রায়ই বিদ্যালয়ের বাইরে থাকতে হয়। শিক্ষক সংখ্যাও তুলনামূলক কম। এতে প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রম সচল রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃপা সিকদার জানান, তিনি ২০১৮ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। প্রধান শিক্ষকের জন্য নির্ধারিত পদমর্যাদা ও সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছেন না।

কৃপা সিকদার বলেন, দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের, কিন্তু সুবিধা সহকারী শিক্ষকের। বছরের পর বছর এভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেও বেতন ও পদমর্যাদাগত সুবিধা না পাওয়ায় হতাশা তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের বেশ কিছু পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে তাদের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি পাঠদানও চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত এসব পদ পূরণ হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদানে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।

বিষয় :