logo

মাদারীপুরে হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের একাধিক ঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

মাদারীপুরে হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের একাধিক ঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র আলমগীর হাওলাদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের একাধিক বসতঘরে আগুন, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে নতুন মাদারীপুর এলাকায় জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বাড়িসহ বেশ কয়েকটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে।

নিহত আলমগীর হাওলাদার মাদারীপুর পৌরসভাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকার মৃত হাফেজ হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার হাসান মুন্সির বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়ায় দুটি পক্ষ। এরই জেরে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সমর্থক ও চাচাতো ভাই আলমগীর হাওলাদারের বসতঘরে ঢুকে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সির লোকজন। এ সময় আলমগীরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। বাধা দেওয়ায় নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ছাড়া বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটও করে হামলাকারীরা। পরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে দাফন হয় আলমগীর হাওলাদারের মরদেহ।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হাসান মুন্সির গ্রুপ জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়। এদিকে আগুনে পুড়ে যায় অনেকেই বসতঘর। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার। এ বিষয়ে জানতে হাসান মুন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

স্থানীয়রা জানান, হত্যার পরও থামছে না অগ্নিকাণ্ড-লুটপাট। দুই গ্রুপের মারামারি-অগ্নিকাণ্ড ও হত্যার জন্য আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। 

মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে, সব চেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হয়। এলাকাবাসী একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও ওপর তেড়ে আসে। তারপরও দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও বিক্ষুব্ধরা বিভিন্ন এলাকা থেকে একত্রে জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ছাড়া আলমগীর হাওলাদার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতেও কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ।