এসপি ও দুই ওসির প্রত্যাহারসহ চার দাবি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের

কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও দুটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবি তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ থেকে তারা এসব দাবি জানান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় তারা অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ‘কুমিল্লায় মানুষ মরে, পুলিশ গিয়ে মেডেল ধরে’, ‘খুনির কোনো ছাড় নাই, ফাঁসি ছাড়া নিস্তার নাই’ এবং ‘আজকে অপ্রতিম, কালকে কার পালা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি ও ফাঁসি কার্যকর; কুমিল্লা পুলিশ সুপার এবং আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ওসিকে প্রত্যাহার; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের জন্য তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠন।
এর আগে, এদিন সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় কুমিল্লার গন্ধমতিতে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সেখানে বাসার পাশের কবরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়।
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের পর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অপ্রতিমের সন্ধানে খোঁজ চালান। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা জানানো হয়েছে।
শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ কোটবাড়ি গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
