logo

৩৩ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতি, নজিরবিহীন লোডশেডিং চাঁপাইনবাবগঞ্জে

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
৩৩ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতি, নজিরবিহীন লোডশেডিং চাঁপাইনবাবগঞ্জে
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরমের মধ্যেই চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৩৩ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতিতে নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। জেলাজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থাকায় শহর এলাকায় দিন-রাতে গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, আর গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্য। বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়েই তাদের এই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বিদ্যুতের মোট ১৪৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯৯ মেগাওয়াট। জেলা শহরের নেসকো জোন-১ এলাকায় ৩২ মেগাওয়াটের বিপরীতে ২২-২৩ মেগাওয়াট এবং নেসকো জোন-২ এর আওতাধীন হুজরাপুর, নয়াগোলা ও বটতলাহাটে ৪১ মেগাওয়াটের বিপরীতে মিলছে ২৪ থেকে ৩০ মেগাওয়াট।

শহরের শান্তি মোড় এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের চরম ভোগান্তির পর গত শনিবার থেকে আবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটায় সাধারণ মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা রশিদুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। অনিদ্রা ও ভোগান্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতি ও দাপ্তরিক কার্যকমে। সরকারি-বেসরকারি অফিসে কম্পিউটারভিত্তিক কাজ এবং নথিপত্র প্রিন্ট করার মতো জরুরি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের ওপর লেগেছে বড় ধাক্কা।

অক্টোমোড়ের লন্ড্রি ব্যবসায়ী সুজন জানান, আগে দৈনিক প্রায় ১৫০টি জামাকাপড় ইস্ত্রি করতে পারলেও এখন বিদ্যুৎহীনতায় তা নেমে এসেছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টিতে। কাস্টমার ফিরে যাওয়ায় দোকানের ভাড়া তোলা নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি চলমান ফুটবল মৌসুমে খেলা দেখার আনন্দও মাটি হচ্ছে ক্রীড়াপ্রেমীদের। শিবগঞ্জ পৌর এলাকার তুষার মাহমাদু নামের এক ফুটবলপ্রেমী আক্ষেপ করে বলেন, মধ্যরাতে খেলা দেখার সময় গোল হওয়ার মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম হতাশ হতে হচ্ছে। দ্রুত এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে মুক্তি চান জেলার সর্বস্তরের ভুক্তভোগী মানুষ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, গত ১৩ জুন থেকে হরিপুর গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়ায় মহানন্দা নদীর ওপারে লোডশেডিংয়ের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাতে সেখানে ৭৫ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫৩ থেকে ৫৪ মেগাওয়াট। তবে আমনুরা ও নাচোল এলাকায় লোডশেডিং কিছুটা কম। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বাড়লে দ্রুতই এই সংকটের সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।