ঘরে অচেতন পরিবারের তিন সদস্য, টাকা-স্বর্ণালংকার গায়েব

পিরোজপুরের জিয়ানগর (ইন্দুরকানী) উপজেলায় বসতঘর একই পরিবারের তিন সদস্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের ঘর থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে উপজেলার চাড়াখালী গ্রামে বসতঘর থেকে তাদেরকে উদ্ধার করেন প্রতিবেশীরা।
অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, ব্যবসায়ী আমির হোসেন, তার স্ত্রী মাহিনুর বেগম ও তাদের ছেলে মো. তাওহীদ। তারা পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশীরা তাদের ঘরের দরজা বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করেন। সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন প্রতিবেশীরা। তারা পরিবারের তিন সদস্যতে ঘরের বিভিন্ন স্থানে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রতিবেশীরা জানান, ঘরে ঢুকে তারা ট্রাংকের তালা খোলা এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন, ট্রাংকের ভেতরে নগদ ৭০ হাজার টাকা ও মাহিনুর বেগমের স্বর্ণের কানের দুল ছিল। খোঁজ করে এসব পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ মল্লিক বলেন, খবর পেয়ে তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে তিনজনকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন তাদের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল এবং পুরোপুরি জ্ঞান ফেরেনি।
প্রতিবেশী গৃহবধূ সাথী আক্তার জানান, সকালে তার শাশুড়ি পরিবারের সদস্যদের ডাকাডাকি করছিলেন। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। তারা ঘরে ঢুকে সব কিছু এলোমেলো এবং পরিবারের তিন সদস্যকে তিন জায়গায় শুয়ে থাকতে দেখেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমির হোসেন বলেন, রাত ৮টার দিকে আমরা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। এরপর সকাল ৯টা পর্যন্ত আমাদের কোনো হুঁশ ছিল না।
আমির হোসেনের বড় ছেলে মিরাজ জানান, তিনি ঢাকায় চাকরি করেন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ফোনে ঘটনাটি জানতে পারেন। ঘরে থাকা ৭০ হাজার টাকা ও তার মায়ের স্বর্ণের কানের দুলসহ নানা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খোয়া গেছে।
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান বলেন, খবর পেয়েছি। ওই পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



