মাছবাজার থেকে বিনোদনকেন্দ্র সাজু মোল্লার ঘাট

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীর পাড়ে অবস্থিত সাজু মোল্লার মাছঘাট। একসময় মূলত মাছ কেনাবেচার জন্য পরিচিত এই ঘাটটি এখন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে বিনোদনপ্রেমী মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্র। বটগাছের ছায়া, মেঘনার বিশাল জলরাশি, নৌকা ভ্রমণ, জোয়ার-ভাটার মনোরম দৃশ্য, নদীর পাড়ে বসে আড্ডা এবং খাবারের আয়োজন—সব মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে চমৎকার এক পরিবেশ।
ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, মেঘনার বুকে নৌকা চলছে। কোথাও জেলেরা মাছ ধরছেন, আবার কোথাও চলছে নদীর তাজা মাছের বেচাকেনা। নদীর পাড়ের বটগাছের ছায়ায় বসে অনেকেই উপভোগ করছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। বিশেষ করে বিকেল হলেই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
স্থানীয় দর্শনার্থী রাকিব হোসেন বলেন, এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। নদীর পরিবেশ, বাতাস আর নৌকা ভ্রমণ—সবকিছুই সুন্দর। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটা বেশ ভালো।
জোয়ার এলে বদলে যায় মেঘনার রূপ। ঢেউয়ের সঙ্গে নদীর পানি যখন ঘাটের দিকে ছুটে আসে, তখন তৈরি হয় চোখজুড়ানো দৃশ্য। আবার ভাটার সময় নদীর বুকের পরিবর্তিত রূপও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। নদীর পাড়ে বসেই দেখা যায় জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য। পাশাপাশি নৌকায় করে মেঘনার বুকে ঘুরে দেখার সুযোগও রয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য ঘাটের আশপাশে রয়েছে বসে আড্ডা দেওয়ার ব্যবস্থা। রয়েছে রেস্টুরেন্ট ও খাবারের আয়োজন। সেখানে চা-কফি, নাশতা, ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন খাবার খাওয়ার পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে বসেই উপভোগ করা যায় মেঘনার জলরাশি। বিকেল থেকে সন্ধ্যার সময় নদীর ওপর সূর্যের আলো-ছায়ার খেলা আর শীতল বাতাস পুরো পরিবেশকে করে তোলে আরও মনোমুগ্ধকর।
সাজু মোল্লার ঘাটের ব্যবসায়ী সাজু মোল্লা বলেন, মানুষ এখন শুধু মাছ কিনতে আসে না, নদীর সৌন্দর্য দেখতেও আসে। বিকেলে অনেক পরিবার আসে, বসে খাবার খায়, আড্ডা দেয়। আমরা চেষ্টা করছি দর্শনার্থীদের ভালো পরিবেশ দিতে।
তবে মাছঘাট হিসেবে সাজু মোল্লার ঘাটের রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য। মেঘনা নদী থেকে ধরে আনা তাজা মাছ স্থানীয় জেলেরা এখানে নিয়ে আসেন। চলে পাইকারি ও খুচরা কেনাবেচা। ফলে একই জায়গায় দেখা মেলে নদী, জেলে, মাছের ঘাট এবং পর্যটনের সম্ভাবনার।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে যদি আরও সুন্দরভাবে পর্যটন সুবিধা তৈরি করা যায়, তাহলে দূর-দূরান্তের মানুষও আসবে। এতে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে।
স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিতভাবে পর্যটন সুবিধা বাড়ানো গেলে সাজু মোল্লার ঘাট রায়পুরের পাশাপাশি লক্ষ্মীপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, সাজু মোল্লার মাছঘাট মেঘনার পাড়ে একটি সম্ভাবনাময় স্থান। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী ও জেলেদের জীবনযাত্রা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে। পরিকল্পিতভাবে পর্যটন সুবিধা বাড়ানো গেলে এ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সাজু মোল্লার ঘাটকে আরও সুন্দর ও পর্যটনবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।



