logo

গাজীপুর যাওয়া হলো না, অন্তঃসত্ত্বা মর্জিনাসহ একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

গাজীপুর যাওয়া হলো না, অন্তঃসত্ত্বা মর্জিনাসহ একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু
জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি। ছবি : এশিয়া পোস্ট

ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নে। নিহতদের চারজন একই পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে মর্জিনা (২৫) দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মা রাশিদা বেগম, দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনালকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মোফাজ্জল হোসেন লেবু। নান্দিনা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রথমে ময়মনসিংহ যাওয়ার কথা ছিল তাদের। সেখান থেকে বাসে করে গাজীপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তাঁরা।

নিহতরা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫), তার মা রাশিদা বেগম (৮৫), মেয়ে মর্জিনা (২৫) ও মর্জিনার পাঁচ বছর বয়সি ছেলে মিনাল। একই ইউনিয়নের বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী এবং বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলীও এ দুর্ঘটনায় নিহত হন।

স্বজনেরা জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হুতাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। মা রাশিদা বেগম ও বিবাহিত মেয়ে মর্জিনাকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আগের দিন বাড়িতে আসেন তিনি।

মোফাজ্জল হোসেন লেবুর ভাবি ইসমতারা বলেন, আমার দেবর গাজীপুরে থেকে দিনমজুরের কাজ করতেন। গতকাল বাড়িতে এসেছিলেন শাশুড়ি, ভাতিজি ও নাতিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমার ভাতিজি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। একসঙ্গে সবাইকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, রাজিব পরিবহনের বাসের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আজ সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, একই পরিবারের চারজন মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে মর্জিনা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসটি নিয়ে চালক ও তার সহকারী ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে পুলিশ বাসটি আটক করে। তবে চালক ও তার সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উভয় যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে কেউ কাউকে সাইড দিতে না পারায় সংঘর্ষটি ঘটে।