শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী মণিপুরি ‘লাই হারাওবা’ উৎসব

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মণিপুরি সম্প্রদায়ের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আচারিক উৎসব ‘লাই হরাওবা’। উপজেলার আদমপুর তেতইগাঁও গ্রামে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনে এ উৎসবের আয়োজন হবে।
অনুষ্ঠানে বিষয়বস্তু তুলে ধরতে সোমবার (৬ এপ্রিল) কমলগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেন আয়োজক কমিটি। তারা জানান, বুধবার (৮ এপ্রিল) থেকে শুরু হবে এই উৎসব। এবারের উৎসবে দেশের প্রতিথযশা শিল্পী, গবেষকদেরপাশাপাশি ভারতের মণিপুর থেকে একদল শিল্পী কলাকুশলী, গবেষক অংশগ্রহণ করবেন।
তিনব্যাপী ‘লাই হারাওবা’ উৎসব আয়োজনের বিভিন্ন বিষয়বস্তু তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশের সদস্য সচিব ওইনাম লানথই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির আহব্বায়ক ইবুংহাল সিনহা (শ্যামল), সদস্য রবি কিরণ সিনহা (রাজেশ)।
বাংলাদেশি মনিপুরিদের বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ‘লাই হারাওবা’কে সংরক্ষণ ও লালন বিকাশে এগিয়ে এসেছে ইউনেস্কো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অর্থায়নে আয়োজিত এই উৎসবটি পরিচালনা করছে লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশ। সহযোগিতায় থাকছে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স,মরূপধর্মীয় সাংস্কৃতিক সংস্থা ও সাধন বাংলাদেশ।
আয়োজকরা জানান, মণিপুরি লাই হারাওবার এই উদযাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগের অংশ। ‘লাই হারাওবা’ মণিপুরি সম্প্রদায় সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের চেতনায় লালিত বাংলাদেশের বর্ণময় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে অবদান প্রদর্শন করে। লাই হারাওবা হলো মণিপুরি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রাচীন ও তাৎপযপূূর্ণ উৎসব। এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘দেবতাদের আনন্দ উৎসব’। এটি সৃষ্টি, দিব্য সত্তা, বিশ্বতত্ত্ব এবং সম্প্রীতির এক গভীর উদযাপন; যা প্রকাশিত হয় জটিল ও অনন্য ধারাবাহিক আচার-অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত, মন্ত্র পাঠ (লাইপৌ) এবং মাইবী জাগোই-এর মতো স্বতন্ত্র নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে।
আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ওইনাম লানথই বলেন, এই উৎসবে সব শ্রেণি পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানাই। ঐতিহ্যবাহী উৎসব সবার উপস্থিতিতে হোক প্রাণবন্ত। উৎসবটি চিরাচরিত রীতি ও প্রথাগতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসব মণিপুরি সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের প্রাণ। উৎসবটি সফল করতে এবং মণিপুরিদের এই বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা ও উপস্থিতি কামনা করছি।