logo

শত্রুর বিষে মরল ৩৫ লাখ টাকার মাছ, কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবু

শত্রুর বিষে মরল ৩৫ লাখ টাকার মাছ, কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবু
পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবলু প্রামাণিক। ইনসেটে পুলিশের জব্দ করা আলামত ছবি: এশিয়া পোস্ট

নওগাঁর রাণীনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মাছ নিধনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পুকুরের মাছগুলো ছটফট করতে দেখে সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কায় কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী মাছচাষি বাবু নামে পরিচিত বাবলু প্রামাণিক।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ৬ নম্বর কালিগ্রাম ইউনিয়নের জয়সাড় গ্রামে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে।

মাছচাষি বাবলু প্রামাণিক জানান, গত প্রায় তিন বছর ধরে নিজ এলাকার দুই বিঘা আয়তনের একটি পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে তিনি মাছ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তিনি ওই পুকুরে বিশেষভাবে শিং মাছ চাষ করেছিলেন। কিন্তু শনিবার ভোরে নিয়মিত পরিচর্যার অংশ হিসেবে পুকুর পাড়ে গিয়ে তিনি দেখতে পান মাছগুলো পানির উপরে ভেসে উঠে অস্বাভাবিকভাবে ছটফট করছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি একজন স্থানীয় মৎস্য চিকিৎসককে ডেকে আনেন। চিকিৎসক সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত করেন যে, পুকুরের পানিতে ক্ষতিকর বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে।

মাছগুলো বাঁচানোর শেষ চেষ্টা ও আকস্মিক এই সর্বনাশে মাথায় হাত পড়ে যায় বাবলু প্রামাণিকের। জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম এই পুকুরের মাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই বর্বরোচিত ঘটনায় উৎপাদিত মাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। তবে পুকুরে ঠিক কতটি মাছ জীবিত রয়েছে এবং সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ না হলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রাণীনগর থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

এ বিষয়ে রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কে বা কারা এই ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে পুলিশ ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন, পূর্ব শত্রুতার জেরেই কেউ এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি।