শ্রমিক মৃত্যুর জেরে পাঁচ কারখানায় ভাঙচুর, তিন মামলায় আসামি ১১০০

এশিয়া পোস্ট নিউজ, গাজীপুর
শ্রমিক মৃত্যুর জেরে পাঁচ কারখানায় ভাঙচুর, তিন মামলায় আসামি ১১০০
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি কারখানা। ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে কর্মস্থলে অসুস্থ হয়ে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঁচটি পোশাক কারখানায় হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলায় ১ হাজার ১০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেড, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে।

মামলাগুলোর বিবরণ অনুযায়ী, ট্রিপল অ্যাপারেলে হামলার ঘটনায় ৩০০ জন, এমএইচসি অ্যাপারেলে ৫০০ জন এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলসে হামলার ঘটনায় আরও ৩০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত নারী শ্রমিক লিজা বেগম (৩৭) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কড়ইতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বুধবার রাতে কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর লিজা বেগমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর সহকর্মীরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শ্রমিকদের উসকানি দেয়। পরে তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করে একাধিক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

হামলার শিকার কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাওনা চৌরাস্তা এলাকার ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, কেওয়া এলাকার ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেড, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড এবং সিআরসি অ্যাপারেলসহ মোট পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেডের মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০০ থেকে ৩০০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানার প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন স্থাপনা ও যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেডের প্রশাসন (অ্যাডমিন) ব্যবস্থাপক মো. ফারুক মিয়া বলেন, প্রায় ৫০০ জনের একটি উগ্র দল কারখানায় হামলা চালিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে। হামলাকারীরা সাততলা ভবনের প্রায় প্রতিটি ফ্লোরে ভাঙচুর চালায়। এতে কম্পিউটার রুমসহ বিভিন্ন বিভাগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, মামলার অধিকাংশ আসামিই বহিরাগত দুষ্কৃতকারী। কিছু শ্রমিক ভাঙচুরে অংশ নিলেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর শ্রমিক নন। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে।