স্কুলে যাওয়ার কথা বলে ২ সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিলেন মা

গাজীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের মৃত্যু হয়েছে। রেললাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দুই সন্তানসহ ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম হাফেজা খাতুন মালা (৩৫)। তিনি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ নতুন সোমবাজার এলাকার মোজাম্মেল হকের মেয়ে। তার মেয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাবাসসুম (৮) ও ছেলে মারুফ (৫)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকালে হাফেজা খাতুন তার দুই সন্তান নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল এলাকায় রেলক্রসিং এলাকায় বেশ কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকাগামী তিতাস এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময় হাফেজা বেগম তার দুই সন্তানের হাত ধরে ট্রেন লাইন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন।
এ সময়ে রেলক্রসিয়ের গেটম্যান চিৎকার করে তাদের সরে যেতে বললেও ওই নারী দুই সন্তানের হাত ধরে রেললাইনে দাঁড়ি থাকেন। এ সময় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পূবাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ তাদের হেফাজতে নেয়।
নিহতদের পারিবারিক সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, হাফেজা খাতুন মালা তার শ্বশুরবাড়ি কালীগঞ্জের আতুরীতে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। সোমবার সকালে শ্বশুরবাড়িতে ঝগড়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে মেয়েকে ইউনিফর্ম পরিয়ে স্কুলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন তিনি।
গেটম্যান আব্দুল সাত্তার জানান, তিনি যখন চিৎকার করে তাদের সরে যেতে বলেন তখন বাচ্চা দুটি তার হাত ধরে টানাটানি করে সরে যেতে চাইছিল কিন্তু ওই নারী তাদের ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। আমি দৌড়ে গিয়েও তাদের রক্ষা করতে পারিনি।
নিহতের চাচি আম্মিয়া বেগম বলেন, রোববার দেবর ও ঝাঁর (দেবরের স্ত্রী) সঙ্গে মালার ঝগড়া হয়। পরে সে বিষয়টি স্বামী উজ্জ্বলকে জানায়। কিন্তু স্বামী উজ্জ্বল কোনো প্রতিবাদ করেনি। সোমবার সকালে ফের তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে সন্তানদের নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে পূবাইলে গিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয়।
পূবাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আল আমিন জানান, ওই নারী তার দুই সন্তান নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছে বলেই জানতে পেরেছি। তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে।
পূবাইল থানার ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, এক মা আর দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তারা ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছে বলেই জানতে পেরেছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।