পাম্পে পাম্পে ঘুরছেন কৃষক, থমকে যাচ্ছে চাষাবাদ

রাঙামাটির ফিলিং স্টেশনের জ্বালানি তেল বিক্রির রুটিন ও সময়ের বেড়াজালে ডিজেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন কৃষক, জেলে ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকরা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) শহরের চারটি পাম্পের মধ্যে তিনটিতে রুটিন অনুযায়ী ডিজেল নিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কৃষক, বোটচালক, ট্রাকচালক ও জেলেদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন ডিজেলের জন্য।
জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসন সপ্তাহে তিন দিন ডিজেল ও সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। তবে জ্বালানির জন্য ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন অনেকে। তবে পাম্পগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ের পর দীর্ঘ লাইন থাকলেও সময়ের বেড়াজালে তেল না পেয়ে হতাশ কৃষকরা। তারা জানান, জমিতে পানি দিতে না পারায় মাটি ফেটে যাচ্ছে। গাছ মরে যাচ্ছে। এখন বৃষ্টির অপেক্ষায় তারা। সময় বৃদ্ধিরও দাবি জানান।
তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন নারীরা। তারা জানান, পুরুষরা জাল নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে যেতে পারছে না। তেলে পেলেই আবার জাল নিয়ে নদীতে যেতে পারবেন। ডিজেল সংকটে পণ্যবাহী ট্রাক।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যয় বাড়ছে কৃষি কাজে।
অন্যদিকে তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ যাত্রীবাহী স্পিডবোট সার্ভিস। অকটেন না পাওয়ায় দ্রুতগামী এই সেবাটি বন্ধ রয়েছে বলে জানান স্পিডবোট লাইনম্যান মো. মহি উদ্দিন।
বরকল থেকে রিজার্ভ বাজার মেসার্স মহসিন ফিলিং স্টেশনের তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ায় থাকা সোহেল চাকমা বলেন, ‘গত পরশুদিনও তেল না পেয়ে ঘুরে গেছি। আজও বেলা ১১টা বেজে যাওয়ায় লাইন থাকা কাউকে আর তেল দিবে না। এখন কি করব। ক্ষেতের ধানের জমির মাটি ফেটে গেছে। পানি দিতে পারছি না। বৃষ্টিও হচ্ছে না। কে দেখবে আমাদের?’
রাঙামাটি সদর উপজেলার বালুখালী এলাকার আরেক চাষি বলেন, সময়টা বাড়িয়ে দিলে আমরা কিছু তেল পেতাম। সেই সকাল ৬টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
পণ্যপরিবহনের চালক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘ট্রাকে তরমুজ নিয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছি। পাম্পে এসে বসে থেকেও ডিজেল পাইনি। এখন কি করব বুঝতে পারছি না।’
এ বিষয়ে রাঙামাটি কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সেচ কাজে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে এভাবে চলতে থাকলে অবশ্যই বোরো আবাদ ও লক্ষমাত্র পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হতে পারে। অনেকে দূরের উপজেলা থেকে রাঙামাটি শহরে তেল নিতে আসেন। ফলে কৃষি কাজে ব্যয় বাড়ছে। তবে সঠিক কৃষক যাতে ডিজেল পায় সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’