ক্লাস চলাকালীন মৌমাছির কামড়ে ১০ শিক্ষার্থী আহত, বাঁচার জন্য পুকুরে ঝাঁপ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে মৌচাক কাটাকে কেন্দ্র করে মৌমাছির কামড়ে ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
রোববার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ৭৯নং আন্ডারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নেয়ামত হোসেনের নির্দেশনায় স্কুল ভবনে থাকা একটি মৌচাক অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় হঠাৎ মৌমাছির ঝাঁক ছুটে এসে শ্রেণিকক্ষে থাকা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করে। আতঙ্কিত হয়ে অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের রক্ষায় পাশের নদীতে ঝাঁপ দেয়। এতে ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চিৎকারে স্থানীয় এলাকাবাসী ছুটে এসে উদ্ধার করেন। তবে মৌমাছির আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি তারাও। এতে কয়েকজন এলাকাবাসী আহত হন।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ক্লাস চলছিল হঠাৎ দেখি মৌমাছি। পরে আমরা দৌড়ে পালাতে গিয়ে আমাদেরকে কামড় দেয়। পরে বাঁচার জন্য পুকুরে ঝাঁপ দিই।’
সাদিয়া আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হুট করে মৌমাছি ক্লাসের ভিতর ঢুকে আমাকে অনেক কামড় দিয়েছে। আমি বাঁচার জন্য পুকুরে ঝাঁপ দিই, এখন আমার শরীরে অনেক ব্যথা করছে।’
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, স্কুল চলাকালীন সময়ে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা ঠিক হয়নি। আগে ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপদভাবে মৌচাক সরানো উচিত ছিল। এতে শিশুদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক নেয়ামত হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই মৌচাকটি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি এভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, তা কল্পনাও করিনি।’
এ বিষয়ে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।