logo

কাঠের পিঁড়িই কর্মস্থল: কুড়িগ্রামের নরসুন্দরদের নীরব সংগ্রাম

কাঠের পিঁড়িই কর্মস্থল: কুড়িগ্রামের নরসুন্দরদের নীরব সংগ্রাম

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে গেলে চোখে পড়ে ভিন্ন এক জীবনচিত্র। নেই আধুনিক সেলুন, নেই আরামদায়ক চেয়ার বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ। খোলা আকাশের নিচে, মাটির ওপর একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি—সেখানেই চলছে দাঁড়ি-চুল কাটার কাজ।

জানা গেছে, জেলার ৯ উপজেলার চর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে প্রায় তিন শতাধিক নরসুন্দর ভ্রাম্যমাণভাবে এ পেশায় নিয়োজিত। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বসা হাটেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে তাদের কর্মযজ্ঞ।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর হাটে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জন নরসুন্দর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে আছেন। কারও হাতে কাঁচি, কারও হাতে ক্ষুর। পাশে একটি আয়না আর ছোট ব্যাগে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম—এই সামান্য আয়োজনেই চলছে তাদের জীবিকা।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চর থেকে আসা তারা মিয়া বলেন, আমরা গরিব মানুষ। সেলুনে গেলে ৫০-৭০ টাকা লাগে। এখানে ২৫-৩০ টাকায় চুল কাটা যায়। কাজও খারাপ না।

একই ইউনিয়নের ঝুনকার চর থেকে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের চরে কোনো সেলুন নেই। তাই হাটে এসে চুল-দাঁড়ি কাটি। খরচও কম, কাজও ভালো।

নরসুন্দর কাশেম আলী বলেন, এটা বাপ-দাদার পেশা। অন্য কাজ শেখার সুযোগ হয়নি। দিনে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় হয়। এই আয় দিয়েই সংসার, সন্তানের পড়াশোনা আর চিকিৎসার খরচ চালাতে হয়।

কুড়িগ্রাম নরসুন্দর সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্মল চন্দ্র বলেন, স্থায়ী দোকান না থাকায় তাদের ঘরভাড়া বা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় না। তাই কম টাকায় সেবা দিতে পারেন। তবে আয় খুবই সীমিত এবং হাটের দিনের ওপর নির্ভরশীল। বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে আয় আরও কমে যায়।