বগুড়ায় জেলা জজের এজলাসে আইনজীবীদের হট্টগোল, শুনানি স্থগিত

বগুড়ায় সদ্য যোগ দেওয়া সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামানের এজলাসে দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল, বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শুনানি স্থগিত করে এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান বিচারক।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটে। বিচারকের পদায়ন বাতিল ও তাকে অপসারণের দাবিতে জেলা অ্যাডভোকেটস বার সমিতির আদালত বর্জন কর্মসূচির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে বিচারক মো. মনিরুজ্জামান এজলাসে ওঠার পর শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব একটি মামলার শুনানির আবেদন করেন। বিচারক আবেদন মঞ্জুর করে শুনানি শেষ করেন। পরে আরেকটি মামলার শুনানি শুরু করতে গেলে বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম সেখানে বাধা দেন।
এ নিয়ে আদালত বর্জনের পক্ষে থাকা আইনজীবীদের সঙ্গে বর্জনের বিপক্ষে থাকা কয়েকজন আইনজীবীর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলে এজলাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় বিচারক শুনানি বন্ধ করে খাসকামরায় চলে যান।
এর আগে, সকালেই একই দাবিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন বার সমিতির আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। পরে গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে বগুড়া থেকে বদলি করা হয়। সম্প্রতি তাকে আবার বগুড়ার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে বার সমিতি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এজলাসে সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব বলেন, প্রায় তিন মাস বগুড়ায় জেলা জজ না থাকায় বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের ভোগান্তি হচ্ছিল। আইন মন্ত্রণালয় ও প্রধান বিচারপতির অনুমতি নিয়ে সরকার নতুন জেলা জজ পদায়ন করেছে। বিচারিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে তারা আদালতের কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং সাধারণ আইনজীবীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
তবে বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মো. মনিরুজ্জামানের আগের দায়িত্ব পালনের সময়কার ভূমিকা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তার পদায়ন বাতিলের দাবিতে সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় কয়েকজন আইনজীবী আদালতে শুনানিতে অংশ নেওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিচারকের পদায়ন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আদালত বর্জন কর্মসূচি চলবে।
সকালের মানববন্ধনে বার সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) শফিকুল ইসলামও বিচারক মো. মনিরুজ্জামানের পদায়নের বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, তার আগের দায়িত্ব পালনের সময়কার আচরণ নিয়ে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পদায়ন বাতিল না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানান তারা।
