logo

রাগ করে বাড়ি ছাড়ে সাফায়েত, ৪৬ দিন পর উদ্ধার করল পুলিশ

রাগ করে বাড়ি ছাড়ে সাফায়েত, ৪৬ দিন পর উদ্ধার করল পুলিশ
শিশু সাফায়েত ইসলামকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয় মতলব উত্তর থানা-পুলিশ। ছবি : পুলিশের সৌজন্যে

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে নিখোঁজ হওয়ার দেড় মাসের বেশি সময় পর সাফায়েত ইসলাম (১০) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ১০ মিনিটে মতলব দক্ষিণ উপজেলার ধনারপাড়া এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সাফায়েত। এ ঘটনায় তার বাবা সাবের ইসলাম গত ৮ সেপ্টেম্বর মতলব দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল শিশুটিকে উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাফায়েত জানায়, পরিবারের সঙ্গে রাগ করে সে বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে যায়। পরে ঢাকায় এক ব্যক্তির মাধ্যমে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে লঞ্চে করে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছুদিন কাজ করার পর সে পালিয়ে ট্রেনে ঢাকার কমলাপুরে আসে। পরে নারায়ণগঞ্জ হয়ে মতলব উত্তরগামী একটি লঞ্চে ওঠে। ওই সময় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

সাফায়েতের বাবা মো. সোহেল ও মা সাথী আক্তার জানান, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তারা দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছেন। ছেলেকে ফিরে পেয়ে তারা খুশি। সন্তানকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় মতলব উত্তর থানা-পুলিশ, মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার, চাঁদপুরের পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করেছে। ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব পিপিএম এশিয়া পোস্টকে বলেন, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করেছে। বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সচেতন থাকতে হবে। কোনো শিশু নিখোঁজ হলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানাতে হবে।