মা-মেয়েসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা: আটক ১

ফরিদপুর সদর উপজেলার আলোচিত তিন হত্যাকাণ্ডের একমাত্র অভিযুক্ত যুবক আকাশ মোল্লাকে (২৮) আটক করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে তার বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে তাকে আটক করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে ভোরের দিকে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার গাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালানো হয়। তাকে বাড়ির পাশের কলাবাগান থেকে আটক করা হয়েছে। আটককালে তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল, যা তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
এর আগে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১০ টার দিকে আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, হঠাৎ করেই আকাশ কোদাল নিয়ে উপস্থিত হয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাহেলা বেগম (৫০), আমেনা বেগম (৭৫) ও কাবুল (৪৫) নিহত হন। একই ঘটনায় রিয়াজ মোল্লা (৪৫) গুরুতর আহত হন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত আকাশ মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে তার এই আচরণের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা পরিকল্পনা ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালটি উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে।