logo
Advertisement

‘নিমিষেই সব শেষ, ওরা কাউকেই বাঁচতে দিল না’

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রংপুর
‘নিমিষেই সব শেষ, ওরা কাউকেই বাঁচতে দিল না’
হত্যাকাণ্ডের শিকার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে নগরীর দখিগঞ্জ মহাশ্মশানে পাশাপাশি চারটি চিতায় তাঁদের দাহ করা হয়।

Advertisement

জানা গেছে, রোববার রাত ৮টার দিকে আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চারটি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত ৯টার দিকে মরদেহগুলো দখিগঞ্জ মহাশ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে চারজনকে গোসল করিয়ে নতুন বস্ত্র পরিধান করানো হয়। এরপর পরপর চারটি চিতায় তাদের মরদেহ তোলা হয় এবং স্বজনরাই মুখাগ্নি করেন। রাত ১১টার দিকে দাহকার্য সম্পন্ন হয়।

চারজনকে চিতায় তোলার সময় স্বজনদের আহাজারিতে শ্মশানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের পাশাপাশি উপস্থিত উৎসুক সাধারণ মানুষও এ সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। চিতায় আগুন দেওয়ার সময় স্বজনরা প্রিয়জনদের নাম ধরে বিলাপ করছিলেন।

দাহকার্যের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি জানান, তার জীবদ্দশায় তিনি কখনো এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখেননি। একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে দাহ করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দাহকাজ শেষে চিতায় জল ঢেলে চারজনের অস্থি সংগ্রহ করেন স্বজনরা। পরে আগুন পুরোপুরি নেভাতে শ্মশানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা পাইপ দিয়ে আবারও পানি ছিটান।

নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ভালো মানুষটার ছেলে-মেয়েক নিয়ে কতই না স্বপ্ন ছিল! নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল। খুনিরা পরিবারটির কাউকেই বাঁচতে দিল না।

এর আগে শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত ১১টায় নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় ওই শিক্ষকের নিজ বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী (১২)।

রোববার দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। পরে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ কমিশনারের দাবি, মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন করছিলেন। সেখানে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে চিনে ফেলার ভয়ে একে একে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে। এদিকে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের পর অভিযুক্ত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিষয় :