logo

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অটোরিকশাচালক হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার দুই

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অটোরিকশাচালক হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন, গ্রেপ্তার দুই
আটককৃতরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কাশবন থেকে হাত-পা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় আরজান মিয়া (১৯) নামে এক অটোচালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করার পাশাপাশি লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং এর সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন—হবিগঞ্জ সদরের পৌর মার্কেটের ‘সোহেল টেলিকম’-এর সঙ্গে যুক্ত সিহাব হোসেন (৩২) ও রাহাব আলী ওরফে জুয়েল (৩২)। এ ছাড়া আরজানের ব্যবহৃত ভিভো মোবাইল ফোনটি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এলাকার মো. সামসু মিয়ার (২৩) কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের সরকারি কলেজের সামনে জসিম উদ্দিনের মার্কেটের দক্ষিণ পাশের কাশবনের ভেতর থেকে আরজানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার হাত-পা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা ছিল।

এর আগে, ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হন আরজান। মরদেহ উদ্ধারের পর জানা যায়, তার অটোরিকশা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যাচ্ছিল না।

এ ঘটনায় আরজানের বাবা মো. আবদুল আউয়াল নাসিরনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় এর তদন্তভার নেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পিবিআই। তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাত হোসেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. শাহাদাত হোসেন জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ১ অক্টোবর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামসু মিয়ার কাছ থেকে আরজানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন হবিগঞ্জ সদরের পৌর মার্কেটের ‘সোহেল টেলিকমে’ অভিযান চালিয়ে সিহাব হোসেন ও রাহাব আলী ওরফে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গত ২০ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামৈ-বল্লা বাজার এলাকা থেকে তানভীর আহমেদ ওরফে তুহিন (৩৫) এবং রিমন ওরফে মো. মাহফুজুর রহমান (২৫) পূর্বপরিকল্পিতভাবে আরজানকে নিয়ে নাসিরনগর এলাকায় আসেন। সেখানে তাকে হত্যার পর অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন লুট করে মরদেহ কাশবনে ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার জুয়েল মূল ঘাতক হিসেবে শনাক্ত তুহিন ও রিমনের পূর্বপরিচিত। হত্যার পর লুট করা মোবাইল ফোনটি তারা হবিগঞ্জ সদরের ‘সোহেল টেলিকমে’ নিয়ে যান। পিবিআইয়ের দাবি, সিহাব ও জুয়েল মোবাইলটি লুট করা হয়েছে জেনেও ২ হাজার ২০০ টাকায় কিনে পরে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় সামসু মিয়ার কাছে বিক্রি করেন।

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার সচিন চাকমা বলেন, ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের পর পিবিআই দ্রুত ছায়াতদন্তে নামে। নিবিড় তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, পলাতক আসামিদের গতিবিধি পর্যালোচনা এবং সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়, যা এই মামলার মূল জট খুলে দেয়। লুণ্ঠিত আলামত ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে মূল ঘাতকদেরও শনাক্ত করা হয়েছে।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার সিহাব ও জুয়েলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পলাতক তুহিন ও রিমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।