জামায়াত নেতার ওপর হামলা, বিএনপি প্রার্থীর ছেলেকে তলব

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হারুনুর রশিদের ছেলে রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফিকে তলব করেছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কমিটির চেয়ারম্যান ও সিভিল জজ মো. মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এই তলব আদেশ জারি করা হয়।
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে কমিটি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নামোশংকরবাটী এলাকায় ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদ এবং তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়ার উপস্থিতিতে তাদের ছেলে রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফি একটি বেআইনি জটলা সৃষ্টি করেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই সময় সেখানে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর পৌর এলাকার ১১নং ওয়ার্ড সভাপতি আজিজুল হক নূরের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হয়।
নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি এই ঘটনাকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এবং সংসদ নির্বাচনের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮-এর ৩, ১৫ ও ২৭ বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কেন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় নাচোল সিভিল জজ আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে এই ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফিকে নির্দেশ দিয়েছে বিচারিক কমিটি।
জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের পৌর এলাকার মেনিপাড়া এলাকায় ১১ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের যৌথ প্রচার মিছিল চলাকালে বিপরীত দিক থেকে বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদের গাড়ি আসে। গাড়িটি নির্বিঘ্নে পার করে দেওয়ার জন্য মিছিল নিয়ন্ত্রণ করছিলেন পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আজিজুল হক নুর। এ সময় রুবাইত ইবনে হারুন রাফি গাড়ি থেকে নেমে আজিজুল হক নুরের কলার ধরে মারধর করেন এবং প্রায় ২০ থেকে ২৫ সেকেন্ড গলা চেপে ধরে শূন্যে ঝুলিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়। জামায়াত নেতাদের দাবি, পরে দলটির নেতাকর্মীরা এগিয়ে এলে হারুনুর রশীদ ও তার ছেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত রুবাইয়াৎ ইবনে হারুন রাফি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘তলবের আদেশের নোটিশটি হাতে পাইনি। ওই কাগজটি পেলে এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলব।’