logo

সড়ক থেকে সৈকত, কক্সবাজারে সবখানেই বিড়ম্বনা

লোকমান হাকিম
কক্সবাজার
সড়ক থেকে সৈকত, কক্সবাজারে সবখানেই বিড়ম্বনা
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজার। সমুদ্রের ঢেউ, বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি, পাহাড়, দ্বীপ, নদী, জীববৈচিত্র্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অনন্য সমন্বয়ে প্রকৃতি এখানে তৈরি করেছে পর্যটনের বিশাল ভান্ডার। প্রতিবছর দেশের লাখো মানুষের ভ্রমণ গন্তব্য হয়ে ওঠে এই পর্যটন নগর। পর্যটকের আনাগোনার সঙ্গে বাড়ছে হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পর্যটনসেবা ও বিনোদনকেন্দ্রিক অর্থনীতির পরিধিও। কিন্তু বিপুল সম্ভাবনার বিপরীতে কক্সবাজারের বাস্তবতায় রয়েছে নানা সংকট। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সৈকত ও বালিয়াড়ি দখল, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অবক্ষয়, যানজট, পানি ও পয়োনিষ্কাশন সমস্যা, পর্যটন মৌসুমে অতিরিক্ত চাপ, নিরাপত্তাঝুঁকি এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়হীনতা এর মধ্যে অন্যতম।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, বিশেষ দিবস বা ছুটিকে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে পর্যটনকেন্দ্র সাজানো হলেও নিয়মিত ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থেকে যায়। তিনি বলেন, কক্সবাজারে একটি পর্যটন গবেষণাকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। কক্সবাজারকে সাজাতে হলে সব মানুষের অংশগ্রহণ ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সড়ক থেকে সৈকত, সবখানে বিড়ম্বনা

কক্সবাজারে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেনে পর্যটকের আসা বেড়েছে। তবে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে ট্রেন থেকে নামার পরই অনেক পর্যটকের স্বস্তি হারিয়ে যায়। পর্যটকের লাগেজ নিয়ে টানাটানি করেন ইজিবাইক ও মিশুকচালকেরা। একটু পশ্চিমে গেলেই বাস টার্মিনাল। সেখানেও বাস থেকে নামার পর একই দশায় পড়তে হয় যাত্রীদের। তাছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরের বাইরেও একাধিক চালকের ডাকাডাকি। সব মিলিয়ে কক্সবাজারে পৌঁছানোর শুরুতেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের।

অপরদিকে সমুদ্রের বিশালতা, দীর্ঘ সৈকত আর প্রকৃতির সৌন্দর্য কক্সবাজারকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করলেও সৈকতে একটু স্বস্তিতে বসে সমুদ্রের ঢেউ দেখতে গেলেই চারদিক থেকে শুরু হয় হকারদের আনাগোনা। চা, কফি, ডিম, চানাচুর, ঝালমুড়ি, বাদাম, কলা, জুস, কোমল পানীয়সহ নানা পণ্য নিয়ে একের পর এক বিক্রেতার ডাকাডাকি চলতে থাকে। এর সঙ্গে রয়েছে ভিক্ষুকের আনাগোনা, উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্সে গানবাজনা, শরীর ম্যাসাজের প্রস্তাব, ছবি তোলার আহ্বান কিংবা বিচ বাইকের দাপট। ফলে যে সৈকতে মানুষ মানসিক প্রশান্তির জন্য আসেন, সেখানেই তাদের বিরক্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: এশিয়া পোস্ট
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সুগন্ধা পয়েন্টে ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক নিয়াজ রহমান বলেন, অবসর কাটাতে সৈকতে এসেছেন। কিন্তু বারবার পণ্য কেনার অনুরোধ, ম্যাসাজের প্রস্তাব ও ভিক্ষার আবদারে বিরক্ত লাগছে।

শুধু পর্যটকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই নয়, কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স, ঢাকা (সিসিএডি)-এর এক জরিপেও পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, জরিপে অংশ নেওয়া ৮৮ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, কক্সবাজারের পর্যটক নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল। মাদক ও ছিনতাই বৃদ্ধির পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণ।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, কক্সবাজারে বিনোদন সংকট, শৃঙ্খলা, রাস্তাঘাট অপরিষ্কার, ফুটপাত দখল, সমুদ্রের পানি অপরিষ্কার, নিরাপত্তার যথেষ্ট ঘাটতি আছে। এগুলোর প্রতি আলাদা নজর দেওয়া জরুরি।

আয়ের ৯৮ শতাংশই দেশীয় পর্যটক

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫–২০২৭ মেয়াদের ডেস্টিনেশন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী, কক্সবাজারের পর্যটন খাতের আয়ের ৯৮ শতাংশের বেশি আসে দেশীয় পর্যটকদের কাছ থেকে। অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটনের ভরা মৌসুমে প্রায় ২০ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে ভ্রমণ করেন। অর্থাৎ, কক্সবাজারের অর্থনীতিতে বড় ধরনের কর্মকাণ্ড তৈরি হলেও এর প্রধান ভিত্তি এখনো দেশীয় পর্যটক।

আইএলওর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে কক্সবাজারে দেশীয় পর্যটকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ লাখ। ২০২৩ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখে দাঁড়ায়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় ৪ লাখ হয়। তবে পর্যটন আয়ের ৯৮ শতাংশের বেশি এখনো দেশীয় পর্যটকদের কাছ থেকেই আসে। সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে, পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যটকের সংখ্যা দেড় কোটিতে পৌঁছাতে পারে।

অপরদিকে কক্সবাজারের ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ ঘিরে দুই সপ্তাহে প্রায় ১৬ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে এসেছিলেন। সে সময় প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার লেনদেনের হিসাবও দেওয়া হয়। একইভাবে ২০২৫ সালের ঈদুল আজহার ছুটিতে ৭ থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ পর্যটক এসেছিলেন বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। ওই সাত দিনে পর্যটনসংশ্লিষ্ট পাঁচটি প্রধান খাতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও ব্যবসায়ীদের হিসাবে প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেন। এ সময় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ১৩টি খাতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছিল।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: এশিয়া পোস্ট
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে বিদেশি পাসপোর্টধারী আগমন ছিল ৫ লাখ ৮৫ হাজার ১৪৫ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪ এবং ২০২৩ সালে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪৫১। অর্থাৎ ২০২৫ সালে বিদেশি আগমন আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। তবে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের ক্ষেত্রে কক্সবাজার এখনো বড় সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন অর্থনীতির সম্ভাবনার সঠিক আকার নিয়েও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। বছরে কত পর্যটক আসেন, তারা কত টাকা ব্যয় করেন এবং পর্যটন থেকে স্থানীয় অর্থনীতিতে মোট কত টাকা যুক্ত হয়, এসব তথ্য নিয়মিত ও সমন্বিতভাবে সংগ্রহের ব্যবস্থা নেই। ফলে পর্যটকের সংখ্যা ও ব্যবসার পরিমাণ নিয়ে প্রচলিত অনেক হিসাবই অনুমাননির্ভর।

ঠেকানো যাচ্ছে না সৈকতে প্রাণহানি

সী-সেইফ লাইফ গার্ডের তথ্য বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার সৈকতে পানিতে ডুবে মারা গেছে ৮০ জন। এ সময় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ৭৭ জনকে। একই সময়ে ১০৬ শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ৪৯ লাখ ৯ হাজার ৬৫৫ জনকে সচেতন করা হয়।

সংস্থাটির পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নয় বছরে লাইফগার্ড এলাকার বাইরে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন বছরেই আরও ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে প্রাণহানি।

লাইফগার্ডকর্মী মো. জয়নাল বলেন, উন্নত প্রযুক্তি, অ্যাম্বুলেন্স ও দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার মতো যানবাহনের ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক সময় উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই স্রোতে ভেসে যাওয়া পর্যটক তলিয়ে যান।

সী-সেইফ লাইফগার্ডের আঞ্চলিক পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমুদ্রের গতিপথ, গর্ত ও ক্যানেলের অবস্থান বদলেছে। পর্যটকের তুলনায় লাইফগার্ডের সংখ্যা কম। তাছাড়া উন্নত সরঞ্জামেরও ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে উদ্ধার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে না।

জেলা প্রশাসক মান্নান বলেন, পর্যটকদের সেবায় লাইফগার্ডরা কাজ করছেন। জনবল বাড়ানোর জন্য পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

পর্যটনের আকর্ষণ প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যান প্রকল্পের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনাবিদ খন্দকার নিয়াজ রহমান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটকেরা শুধু সমুদ্রসৈকত দেখতে যান না। বন, পাখি, বন্য প্রাণী, ভূপ্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ থাকে। উদাহরণস্বরূপ, সুন্দরবনে যেমন পাখি ও বন্য প্রাণী দেখতে বিদেশি পর্যটকেরা আসেন, তেমনি কক্সবাজারের বন ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: এশিয়া পোস্ট
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ছবি: এশিয়া পোস্ট

তিনি বলেন, কক্সবাজারের পুরোনো বনাঞ্চল, পাহাড়, সমুদ্র ও ভূমির গঠন পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন আছে কি না, সেটিও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

খন্দকার নিয়াজ রহমান বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতই জেলার পর্যটনের ‘ফ্ল্যাগশিপ’। এই সৈকতকে ঘিরেই দেশের মানুষের কাছে কক্সবাজারের পর্যটন পরিচিতি তৈরি হয়েছে। এখানকার পরিবেশের ক্ষতি মানে পুরো পর্যটন খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। সৈকত এলাকায় দূষণও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পানিতে উচ্চমাত্রার ই-কোলাইয়ের উপস্থিতি সৈকতের পরিবেশ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

কক্সবাজারের মাস্টারপ্ল্যানেও সৈকতের সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষায় বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে তার অভিযোগ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, বালিয়াড়ি ধ্বংস করে স্থাপনা নির্মাণ, হোটেল-মোটেলের বর্জ্য সাগরে যাওয়া এবং সৈকতে প্লাস্টিক ফেলার কারণে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, সৈকত ব্যবস্থাপনার জন্য স্বাধীন একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজন।

জনবল ঘাটতি ট্যুরিস্ট পুলিশে

কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তায় ১০৮ জন ট্যুরিস্ট পুলিশ, ৩৩ জন বিচকর্মী ও ২৭ জন লাইফগার্ডকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পর্যটকের তুলনায় এ জনবল অপ্রতুল।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হোসাইন বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের অনুমোদিত ২০৮ জনের বিপরীতে রয়েছে ১১৩ জন। অর্থাৎ প্রায় ৫০ শতাংশ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এরপরও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।