সেপটিক ট্যাংকের বিষক্রিয়ায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু

বরগুনায় নির্মাণাধীন বন্ধ সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বলছেন, কার্বন মনোক্সাইড ও ফসজিন গ্যাসের বিষক্রিয়ায় শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে আমতলী একে স্কুলসংলগ্ন মাওলানা মো. ইউসুফ আলীর নবনির্মিত ভবনে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল।
নিহতরা হলেন উপজেলার হলদিয়া গ্রামের মো. জাহিদুল হাওলাদার। তার বাবার নাম আজিজ হাওলাদার। অপর নিহত হলেন বেতমোরা গ্রামের মো. জাফর হাওলাদার। তার বাবার নাম ইউনুস মিয়া।
ফায়ার সার্ভিস ও নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ইউসুফ আলী একে স্কুল এলাকায় নতুন পাকা ভবন নির্মাণ করছিলেন। ওই ভবনের সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম ও জাফর হাওলাদার সেখানে যান। শ্রমিক জাহিদুল ট্যাংকের ভেতরে নামামাত্রই চিৎকার দেন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে শ্রমিক জাফর হাওলাদারও ট্যাংকের মধ্যে নামেন। কিন্তু তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই বাড়ির মালিক মাওলানা মো. ইউসুফ আলী গা ঢাকা দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মশিউর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে নামেন। এ সময় তিনি চিৎকার দেন। তাকে রক্ষায় আরেক শ্রমিক ট্যাংকের মধ্যে নামলে তিনিও নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময়ই তারা নিস্তেজ ছিলেন।
নিহত জাফর হাওলাদারের ভগ্নিপতি রুহুল আমিন বলেন, ভবন মালিকের অসচেতনতার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আবু হানিফ বলেন, সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড ও ফসজিন গ্যাসের সৃষ্টি হয়। শ্রমিকরা অসাবধানতাবশত ট্যাংকে নেমে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে বিষাক্ত গ্যাস নিষ্ক্রিয় করে ট্যাংকের মুখ ভেঙে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি পরামর্শ দেন, কোনো বন্ধ সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে কাজ করতে নামার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে ঢাকনা খুলে রাখতে হবে। তাহলে বিষাক্ত গ্যাস বের হয়ে যাবে। এছাড়াও অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
