আমির হামজার নামে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আপাদমস্তক ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে অ্যাডভোকেট এসএম নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার বাদীর আরজি ও উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত আমলে নিয়ে আদেশের জন্য বিষয়টি অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গত ২৬ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মুফতি আমির হামজা তাকে ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন, যা তার ধর্মীয় ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে অভিযোগে বলা হয়। দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় করা এই মামলায় আসামির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরাও এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, একজন সজ্জন রাজনীতিক ও প্রভাবশালী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে মামলার বাদী অ্যাড. এসএম নাজমুল ইসলাম বলেন, মুফতি আমির হামজা বিদ্যুৎমন্ত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তার সম্মানহানি করেছেন। তাই আমি আদালতে মানহানির মামলা করেছি।
গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে দেওয়া বক্তব্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। তার ওই বক্তব্যের ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। যদি বলেন তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী তা না, তিনি ইসলামবিদ্বেষী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে, আপনি বলেন। মুক্তিযোদ্ধারা এখনও বেঁচে আছেন, তাদের জিজ্ঞেস করেন তারা ধর্মবিদ্বেষী কি না।
আমির হামজা বলেন, আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। এ ধরনের অযোগ্য মানুষদের দায়িত্ব না দিয়ে যোগ্যদের বসানো হলে এমন হাহাকার লাগত না।