নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪ /বাসের ছিল না বৈধ কাগজ, চালকের আসনে ছিলেন সুপারভাইজার

নাটোরে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে বাসের রুট পারমিট ছাড়া কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। এমনকি দুর্ঘটনার সময় মূল চালকের আসনে বাসের সুপারভাইজার ছিলেন বলে তথ্য মিলেছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আকবর হোসেন বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বাস ও ট্রাকের অজ্ঞাতপরিচয় চালকদের আসামি করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় বাস ও ট্রাকের ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে আরও ৩২ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে শরীয়তপুরের পাঁচজন, পটুয়াখালীর দুইজন, রাজশাহীর দুইজন, ফরিদপুরের একজন, নওগাঁ একজন ও ঝিনাইদহের একজন বাসিন্দা ছিলেন।
তিনি বলেন, ট্রাকচালক আবুল কালাম আজাদ ও বাসের সুপারভাইজার সোহেল রানাও নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় সুপারভাইজার সোহেল রানা বাসটি চালাচ্ছিলেন বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। তবে সুপারভাইজারও চালক কিনা কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদি নিহত ব্যক্তিরা চালক হন তাহলে আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরও জানান, ট্রাকের সব কাগজপত্র বৈধ থাকলেও বাসের শুধুমাত্র বৈধ রুট পারমিট ছিল। এছাড়া আর কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। হতাহত ব্যক্তিরা সবাই বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তারা কেউ বাদী হয়ে মামলা করার জন্য থানায় আসেনি। পরে বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আকবর হোসেন সড়ক নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দুই পরিবহনের অজ্ঞাত পরিচয় চালকদের আসামি করা হয়েছে। হাইওয়ে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে।
এই দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে জেলা প্রশাসন সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে নির্দ্দিষ্ট কোনো সময় না দিলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

