logo

শিল্প রক্ষায় ব্যাংক সুদ মওকুফের দাবি চট্টগ্রাম চেম্বারের

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
শিল্প রক্ষায় ব্যাংক সুদ মওকুফের দাবি চট্টগ্রাম চেম্বারের
চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে অব্যাহত বিঘ্নতার কারণে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে শিল্পকারখানাগুলো। এই সংকটময় মুহূর্তে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বার্থে ব্যাংক সুদ মওকুফসহ ৬ মাসের কিস্তি স্থগিত এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য বাড়তি সময়ের দাবি জানিয়েছে দ্য চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)।

শনিবার (৮ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে পাঠানো পৃথক দুটি জরুরি চিঠিতে এ অনুরোধ জানান চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

চিঠিতে চেম্বার সভাপতি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সারা দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সরবরাহের ঘাটতি ও নিম্নচাপের কারণে ক্ষুদ্র, মাঝারি থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্প কারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি না পাওয়ায় নিয়মিত কারখানা চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

চিঠিতে তিনি আরও জানান, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শিল্পমালিকদের বিক্রি ও রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংক সুদ এবং অন্যান্য নিয়মিত ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক মাস এ পরিস্থিতি শিল্পোদ্যোক্তাদের বহন করতে হবে।

এমন প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতকে টিকিয়ে রাখতে চেম্বার সভাপতি দুইটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন। প্রথম দাবিটি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করা এবং আগামী ৬ মাসের জন্য ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার প্রয়োজনীয় অর্থ ও পরিকল্পনা গ্রহণ। দ্বিতীয় দাবিটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে কোনো প্রকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করে এবং জরিমানা আরোপ ব্যতীত বকেয়া বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩ মাসের (৯টি মাস) বা অন্তত ৯০ দিনের বিশেষ ‘বিল বিলম্ব মার্জিনা’ প্রদান।

চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলা হয়, উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত এই আর্থিক সংকটে সরকার এগিয়ে এলে শিল্পায়নের যে উদ্যোগ ও গতিশীলতা বর্তমানে রয়েছে তা বজায় থাকবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাঝেও সরকারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস অটুট থাকবে।