বাঁধ ভেঙে বোয়ালা হাওরে ঢুকছে পানি

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বোয়ালা হাওরে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে একটি ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে পড়েছে। এতে বড় একটি কালভার্টের নিচ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকে পড়ায় পাকা বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২ মে) ভোর থেকে মধ্যনগর-মহেষখলা সড়কের পাশে মধ্যনগর গ্রামের কাছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ওই বাঁধটি ভেঙে যায়। এরপর থেকেই প্রবল স্রোতে পানি প্রবেশ করে বোয়ালা হাওরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, হাওরে প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও আগের জলাবদ্ধতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে কিছু ধান কেটে নেওয়া সম্ভব হলেও এখনো প্রায় ২০ শতাংশ ধান মাঠে রয়েছে। হঠাৎ বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকায় অন্তত ৪০ থেকে ১০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যনগর উপজেলা কৃষি অফিসের দাবি, মধ্যনগরের বোয়ালা হাওরে চাষাবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ ৬০০ হেক্টর। বৈশাখের শুরুতে ১৩০ হেক্টর জমির ধান জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। এরপর ৪২০ হেক্টর ধান কাটা হয়েছে, ৫০ হেক্টর জমির ধান কাটার বাকী ছিল। হঠাৎ করে হাওরে পানি ঢুকা শুরু হয়েছে। কৃষকরা ১০ হেক্টর জমির ধান কাটতে পারবেন, ৪০ হেক্টর জমি তলিয়ে যেতে পারে। এতে ক্ষয়-ক্ষতি হতে পারে ২৪০ টন ধান।
মধ্যনগর গ্রামের শেখ পাড়ার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, বৃষ্টির পানিতে আগেই বোয়ালা হাওরের অনেক ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এরপর কৃষকরা কিছু কেটে তুলেছেন। এখনও হাওরে ১৫ থেকে ২০ ভাগ ধান রয়েছে কাটার বাকি ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে আজ ভোর থেকে নদীর পানি বেড়ে বড় কালভার্টের নিচ দিয়ে হাওরে পানি ঢুকে ধান তলিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, বোয়ালা হাওরে মধ্যনগর ও নেত্রকোনা জেলার কমলাকান্দ উপজেলার কৃষকদের ৬০০ হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়েছিল। বৈশাখের প্রথমে ১৩০ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। ইতোমধ্যে ৪২০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। কৃষকরা ধান কেটে তোলার চেষ্টা করছেন। ৪০ হেক্টর পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয় ঘোষ এশিয়া পোস্টকে বলেন, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে সুমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ করে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি কালভার্টের নিচ দিয়ে বোয়ালা হাওরে পানি ঢুকছে। এই হাওরের অধিকাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কম।