অকেজো কোটি টাকার বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন

শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বসানো বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন এখন প্রায় সর্বত্র অচল। স্থাপন করা এসব মেশিনে ব্যয় হয়েছে কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে এগুলো শিক্ষার মানোন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, উপজেলার ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বায়োমেট্রিক মেশিন স্থাপন করা হয়। প্রতিটি মেশিনের জন্য বিদ্যালয় তহবিল থেকে ২৬ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় করা হলেও বাজারে একই ধরনের মেশিনের দাম ছিল মাত্র পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাপে অতিরিক্ত দামে নিম্নমানের মেশিন সরবরাহ করা হয়েছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে মেশিনগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই। কোথাও আবার প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দেয়ালে ঝুলে থাকলেও সেগুলোর কোনো সংযোগ নেই। যেসব বিদ্যালয়ে ডেটাবেজ সংযোগ ছিল, সেখানেও দীর্ঘদিন ধরে মেশিনগুলো অচল।
উপজেলার ৯২ নম্বর গজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহ আলম বলেন, সরকারি অর্থে স্থাপিত মেশিনটি শুরু থেকেই অচল। প্রয়োজনীয় সংযোগ না থাকায় এটি ব্যবহার করা যায়নি। বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও এর কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে এটি ব্যবহারহীন পড়ে আছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ওটারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশিকুজ্জামান বলেন, কারিগরি সুবিধা ও সংযোগ ছাড়া মেশিন বসানো হয়েছে, যা পরিকল্পনার ঘাটতির প্রমাণ। এত টাকা খরচ করেও কোনো কাজে আসেনি। বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এটি সরাসরি সরকারি অর্থের অপচয়। দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মতলব উত্তর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ মোল্লা বলেন, প্রকল্পটি আমার যোগদানের আগের। তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমানে কোনো বিদ্যালয়েই বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন সচল নেই।