চট্টগ্রামে আরও দুই শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছর বয়সি শিশু ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নগরে আরও দুটি শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বায়েজিদ বোস্তামী ও ডবলমুরিং থানা এলাকায় ৫ ও ১০ বছর বয়সি দুই কন্যাশিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোহাম্মদ নগর এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পাঁচ বছর বয়সি এক শিশুকে ১০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন মো. হাসান নামের এক যুবক। পরে শিশুটি পরিবারকে বিষয়টি জানালে শুক্রবার (২২ মে) সকালে ভুক্তভোগী পরিবার থানায় মামলা করে। মামলার ভিত্তিতে দুপুর ২টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হাসানকে গ্রেপ্তার করে।
শিশুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন আছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তফা কামাল গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ডবলমুরিং থানার হাজীপাড়া এলাকায় ১০ বছর বয়সি আরেক কন্যাশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত এহসানকে (৫৫) ধরে গণপিটুনি দিয়ে একটি স্থানে অবরুদ্ধ করে রাখে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতার রোষানলে পড়ে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। স্থানীয়রা অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পুলিশকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে পুলিশ ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং পুলিশ এহসানকে থানায় নিয়ে আসে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, এহসান তাদের বাসার পাশের একটি কলোনির নিরাপত্তাপ্রহরী। শুক্রবার দুপুরের দিকে এহসান তার মেয়েকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে একটা বাউন্ডারি দেওয়া খালি জায়গায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তার ভাই দেখে ফেললে এহসান পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ জানান, ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর বাকলিয়ায় চার বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দফায় দফায় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই নগরীতে আরও দুটি ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।



